টর্নেডো (Tornedo):

☻ব্যুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘Tornedo’ শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ শব্দ ‘Tornada’ থেকে, যার অর্থ বজ্রসম্পন্ন ঝড়

সংজ্ঞাঃ মূলতঃ কিউমুলোনিম্বাস (ক্ষেত্রবিশেষে কিউমুলাস) মেঘ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফানেল বা হাতির শুঁড়ের মত বায়ুস্তম্ভের আকারে সৃষ্ট ভূপৃষ্ঠের উপরে প্রচন্ডবেগে ঘূর্ণায়মান চলনশীল ঝড়কে টর্নেডো (Tornedo) বলে ।

বন্টনঃ আন্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই টর্নেডো দেখা যায় । তবে সবথেকে টর্নেডোপ্রবণ মহাদেশ হল উত্তর আমেরিকা । পৃথিবীর প্রায় ৯০% টর্নেডোই এই মহাদেশে সংঘটিত হয়ে থাকে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছরই প্রায় ৭০০ – ৮০০ টর্নেডো সংঘটিত হয় এবং এদের অধিকাংশই ঘটে থাকে রকি পর্বতের পূর্বদিকে অবস্থিত গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে, যেটি হল পৃথিবীর সর্বাধিক টর্নেডোপ্রবণ অঞ্চল । এছাড়াও, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলগুলির মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূ্র্বাংশ ও নিউজিল্যান্ড; আফ্রিকার দক্ষিণাংশ; ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাংশ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাংশে কিছু সংখ্যক টর্নেডো সংঘটিত হয়ে থাকে ।

বৈশিষ্ট্যঃ টর্নেডো – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) আকৃতিঃ টর্নেডো হলো অতি ক্ষুদ্র কিন্তু মারাত্মক শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত (Vortex) । এদের আকৃতি অনেকটা চোঙ বা ফানেলের মত হয় । তবে স্থান ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী টর্নেডোর আকৃতি বিভিন্ন রকমের হতে পারে । বৃহৎ টর্নেডোগুলিকে দেখতে যেমন ভূপৃষ্ঠে পোঁতা কীলক বা হাতির শুঁড়ের মত দেখায়, তেমনই দূর্বল ও ক্ষুদ্র টর্নেডোগুলিকে ছোট ধুলোর ঘূর্ণিরূপে ভূপৃষ্ঠে দেখতে পাওয়া যায় । আবার, অন্তিম পর্যায়ে টর্নেডোগুলিকে দেখতে সরু নল বা দড়ির মত লাগে এবং প্রায়শই তা এঁকেবেঁকে নানা জটিল আকৃতি ধারণ করে । একে রোপিং আউট (Roping-out) বলে । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, অনেকসময় মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি ও ধূলিকণার অভাবে টর্নেডোর দৃশ্যমাণতা হ্রাস পায়, ফলে টর্নেডোর আসল আকৃতি বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে । এইপ্রকার দৃশ্যমানতাহীন টর্নেডো খুবই বিপদজনক প্রকৃতির হয় । কারণ অভিজ্ঞ আবহাওয়াবিদ্গণ ছাড়া এদের প্রকৃত বিস্তার, গতিপথ ও ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না ।
খ) বিস্তারঃ টর্নেডোর বিস্তার মূলতঃ ১৫০ – ২০০ মিটারের মধ্যে থাকলেও এর ক্ষয়ক্ষতি ৫০০ মিটারেরও বেশী অঞ্চলব্যাপী হতে পারে ।
গ) গতিপথঃ টর্নেডোর গতিপথ সাধারণতঃ প্রায় ৫ মাইল বা ৮ কিলোমিটারের মতো হয়ে থাকে । তবে বিশেষক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল টর্নেডোর ক্ষেত্রে যেমন এই গতিপথের দৈর্ঘ্য মাত্র কয়েক ফুট বা মিটার হতে পারে, তেমনই প্রচন্ড শক্তিশালী টর্নেডোর ক্ষেত্রে তা ২০ – ১০০ কিলোমিটার অবধিও হতে পারে । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, মোটামুটি ১০০ মাইলের বেশী গতিপথের দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট টর্নেডোকে টর্নেডো পরিবারের অন্তর্ভূক্ত বলে মনে করা হয় । ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ই মার্চ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত ট্রাই স্টেট টর্নেডোটি মিসৌরি, ইলিনয় এবং ইন্ডিয়ানা রাজ্যের উপর দিয়ে একটানা প্রায় ২১৯ মাইল বা ৩৫২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল ।
ঘ) গতিবেগঃ টর্নেডোর ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ মূলতঃ ৬০ – ১৮০ কিলোমিটার / ঘন্টার মধ্যে থাকে । তবে বিশেষ শক্তিশালী টর্নেডোর ক্ষেত্রে বায়ুপ্রবাহ ৫০০ কিলোমিটার / ঘন্টারও বেশী গতিবেগে প্রবাহিত হতে পারে ।
ঙ) বাহ্যিক রূপঃ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী টর্নেডোর বাহ্যিক রূপ বিভিন্ন হতে পারে । যেমন – টর্নেডো যদি শুষ্ক পরিবেশে সৃষ্টি হয়, তবে তা ঘূর্ণায়মান বাহ্যিক উপাদানের অভাবে প্রায় অদৃশ্য থাকে । কিন্তু যখন এটি ধূলিকণা ও অন্যান্য উপাদানসমৃদ্ধ হয় তখন তা গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে । আবার যখন এটি জলভাগের উপর দিয়ে প্রভাবিত হয়, তখন তা সাদা বা নীল বর্ণ ধারণ করে । অনেক সময় টর্নেডোর বাহ্যিক রূপ স্থানীয় ভূমিভাগের মৃত্তিকার উপরও নির্ভর করে পরিবর্তিত হয় । যেমন – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে মৃত্তিকার বর্ণ লাল বলে উক্ত অঞ্চলে সৃষ্ট টর্নেডোগুলিও লাল বর্ণের ধূলিকণাসমৃদ্ধ হয়ে লাল বর্ণ ধারণ করে । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, টর্নেডোর বাহ্যিক রূপে সূর্যালোকেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে । সূর্যালোক যদি টর্নেডোর পিছন দিক থেকে পড়ে, তবে তা কৃষ্ণবর্ণ দেখায়; আবার, সূর্যালোক যদি টর্নেডোর সামনে থেকে পড়ে তবে তা ধূসর বা উজ্জ্বল দেখায় । এছাড়াও, সূর্যাস্তের সময় টর্নেডো হলুদ, কমলা, গোলাপী প্রভৃতি বিভিন্ন বর্ণের বাহ্যিক রূপ নিয়ে থাকে । অন্যদিকে, রাতের টর্নেডোগুলি বজ্রপাত দ্বারা প্রায়শই আলোকিত হতে থাকে ।
চ) স্থায়িত্বঃ টর্নেডো একপ্রকার স্বল্পস্থায়ী শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, যার স্থায়িত্ব মাত্র কয়েক মিনিট থেকে ক্ষেত্রবিশেষে এক ঘন্টারও বেশী হয়ে থাকে ।
ছ) ঘূর্ণনের অভিমুখঃ ঘূর্ণবাতের মত টর্নেডোও উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরতে থাকে । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ঘূর্ণবাতগুলি বৃহৎ আকৃতির হওয়ায় সেগুলি কোরিওলিস বল দ্বারা প্রভাবিত হয়, কিন্তু টর্নেডোগুলি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র হওয়ায় তাদের ঘূর্ণনে কোরিওলিস বলের প্রভাব খুবই কম অনুভূত হয় ।
জ) বায়ুর চাপঃ টর্নেডোগুলির কেন্দ্রস্থলে শক্তিশালী নিম্নচাপ অবস্থান করে, যা ৯০০ মিলিবারেরও নীচে নেমে যেতে পারে । টর্নেডোগুলিতে বায়ুপ্রবাহের অনুভূমিক অবক্রম হার (Horizontal Pressure Gradient) অত্যন্ত বেশী হয়ে থাকে । এজন্য বহিঃস্থ বায়ু অতি দ্রুত বেগে ভিতরে প্রবেশ করে উপরের দিকে উঠতে থাকে ।
ঝ) সৃষ্টির সময়কালঃ প্রধানতঃ বসন্তকাল থেকে শরৎকাল অবধি টর্নেডো সংঘটনের সময়কাল হিসাবে বিবেচিত হয় । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রের জলভাগে গ্রীষ্মকালে যদি হঠাৎ নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, তবে সেখানে বায়ুমন্ডলীয় স্থিতাবস্থা অশান্ত হয়ে একাধিক টর্নেডো সৃষ্টি হয়ে তান্ডব চালায় ।
ঞ) বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাতঃ টর্নেডোর সাথে সাথে মাঝারী থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে থাকে, এমনকি কখনও কখনও এর সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে এবং সেইসাথে চলতে থাকে মুহুর্মুহু বিদ্যুৎ ঝলকানি ও বজ্রপাত ।
ট) টর্নেডো পরিবার ও টর্নেডো আউটব্রেকঃ অনেক সময় একাধিক টর্নেডো পাশাপাশি অবস্থান করতে করতে অগ্রসর হয় অথবা, একটি টর্নেডোর অন্তিম অবস্থা থেকে নতুন আর একটি টর্নেডোর উৎপত্তি হয় । এদের একত্রে টর্নেডো পরিবার বলে । আবার, একটি টর্নেডো পরিবারে সৃষ্ট একাধিক বা বহু টর্নেডো একত্রে সহাবস্থান করে তান্ডব চালালে তাকে টর্নেডো আউটব্রেক বলে । উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩ রা ও ৪ ঠা এপ্রিল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে একটি মারাত্মক টর্নেডো আউটব্রেকের ঘটনা ঘটেছিল, যাতে একত্রে প্রায় ১৪০ টি টর্নেডো আঘাত হেনেছিল ।
ঠ) ধ্বংসক্ষমতাঃ টর্নেডোর শুঁড় ভূপৃষ্ঠের উপরে প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ওঠানামা করতে থাকে এবং দুলতে থাকে । যেখানে টর্নেডোর এই শুঁড় ভূমি স্পর্শ করে, সেখানে ঘন কালো মেঘে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় এবং প্রবল ঘূর্ণিবায়ুর (২০০ – ৫০০ কিমি / ঘন্টা) সবকিছু ধূলিস্মাৎ হয়ে যায়, যার ফলস্বরূপ প্রভাবিত অঞ্চলে প্রচুর প্রাণহানি ও অন্যান্য মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে । উদাহরণস্বরূপ, ২৬ শে অগাস্ট, ১৮৮৯ বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে প্রায় ১৩০০ জন; ১৮ ই মার্চ, ১৯২৫ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি, ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানা রাজ্যে প্রায় ৬৮১ জন; ২৪ শে মার্চ, ১৯৯৮ ভারতের উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৫০ জন মানুষের প্রাণহানি টর্নেডোর তান্ডবে ঘটে । টর্নেডোর তান্ডবে এরকম মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রচুর প্রাণহানির আরও উদাহরণ অনেক আছে ।

শ্রেণীবিভাগঃ উৎপত্তিগত ও বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে টর্নেডো মূলতঃ পাঁচ প্রকার । যথা –
ক) একক ঘূর্ণি টর্নেডোঃ টর্নেডোর উৎপত্তি থেকে অবলুপ্তি পর্যন্ত একটিমাত্র বায়ুস্তম্ভ ঘূর্ণিযুক্ত হলে তাকে একক ঘূর্ণি টর্নেডো বলে ।
খ) বহু ঘূর্ণি টর্নেডোঃ একটি টর্নেডোতে পাশাপাশি অবস্থানরত একাধিক বা বহু বায়ুস্তম্ভ ঘূর্ণি সৃষ্টি হলে তাকে বহু ঘূর্ণি টর্নেডো বলে ।
গ) স্যাটালাইট টর্নেডোঃ একটি বড় ও শক্তিশালী টর্নেডোর নিকটবর্তী অঞ্চলে একই মেসোসাইক্লোন থেকে সৃষ্ট মূল টর্নেডোকে ঘিরে থাকা অপেক্ষাকৃত ছোট ও দুর্বল টর্নেডোকে স্যাটালাইট টর্নেডো বা উপটর্নেডো বলে ।
ঘ) ধূলি ঘূর্ণি টর্নেডোঃ আলগা মৃত্তিকাযুক্ত ভূমিভাগে টর্নেডো সৃষ্টি হলে তা ব্যপক পরিমাণে ধূলিকণাসমৃদ্ধ হয়ে স্তম্ভাকারে ঘুরতে শুরু করলে তাকে ঘূর্ণন টর্নেডো বা ডাস্ট ডেভিল (Dust Devil) বলে । প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এইপ্রকার টর্নেডোর সাথে ফানেল মেঘের সংযোগ না থাকায় অনেক আবহবিদরাই এইপ্রকার টর্নেডোকে মূল গোত্রীয়ভূক্ত করেন না ।
ঙ) অগ্নি ঘূর্ণি টর্নেডোঃ তীব্র দাবানলের সময় টর্নেডো সৃষ্টি হলে ঘূর্ণির নিম্নভাগ আগুলের বলয়াকারে ঘুরতে থাকে । একে অগ্নি ঘূর্ণি টর্নেডো বলে । তবে এ মধ্যে যেগুলি মেঘের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাদেরকেই টর্নেডো বলে বিবেচনা করা হয় ।
চ) জলস্তম্ভঃ জলভাগের উপর শক্তিশালী টর্নেডো সৃষ্টি হলে প্রবলবেগে ঘূর্ণায়মান বায়ুর টানে জলভাগের জল টর্নেডোর কেন্দ্র বরাবর স্তম্ভাকারে ঘুরন্ত অবস্থায় উপরে উত্থিত হয় । একে জলস্তম্ভ (Water Spout) বলে । পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে প্রায়শই জলস্তম্ভ সৃষ্টি হয়ে থাকে ।

অনুকূল পরিবেশের শর্তাবলীঃ টর্নেডো সৃষ্টির জন্য উপযোগী অনুকূল পরিবেশের শর্তাবলী হলো নিম্নরূপ –
ক) ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু অতি উষ্ণ ও আর্দ্র থাকা প্রয়োজন,
খ) ভূপৃষ্ঠের নিকটস্থ বায়ুস্তর বেশ প্লবনশীল থাকা আবশ্যক
এবং
গ) বায়ুতে আবর্তন সৃষ্টি করার মত অনুকূল অবস্থা থাকা প্রয়োজন ।

জীবনচক্রঃ টর্নেডো – র জীবনচক্রকে মূলতঃ তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করা হয় । যথা –
ক) প্রাথমিক পর্যায়ঃ টর্নেডো সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে সুপারসেল নামক একপ্রকার বজ্রঝড় সৃষ্টি হয় । এই সুপারসেলে কয়েক মাইলব্যপী সংঘবদ্ধ একটি ঘূর্ণনশীল এলাকা থাকে, যাকে মেসোসাইক্লোন বলে । ক্রমশঃ এই সুপারসেলের বায়ুর নিম্নগামীতা বৃদ্ধি পায় এবং সেইসাথে সুপারসেলের মধ্যে থাকা ঘূর্ণনশীল মেসোসাইক্লোনও ভূমির নিকটবর্তী হতে থাকে ।
খ) পরিনত পর্যায়ঃ মেসোসাইক্লোন ক্রমশঃ ভূমির আরও নিকটবর্তী হতে থাকলে ঝড়ের মূল অংশ থেকে নীচের দিকে নেমে আসতে থাকা একটি ঘনীভূত ফানেল দৃশ্যমান হয় । এই ফানেল যখন নেমে আসে তখন নিম্নগামী বায়ুও ভূমি স্পর্শ করে । সাধারণত নিম্নগামী বায়ু ভূমি স্পর্শ করার মিনিটখানেকের মধ্যেই ফানেল মেঘ থাকে টর্নেডো সৃষ্টি হয় । ক্রমশঃ টর্নেডোতে শক্তি সঞ্চালনের জন্য যথেষ্ট উষ্ণ ও আর্দ্র প্রবাহের যে উৎস থাকে তা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে টর্নেডোও পরিনত অবস্থাপ্রাপ্ত হয় । এই অবস্থার আয়ু সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে ক্ষেত্রবিশেষে এক ঘন্টারও বেশী হতে পারে । মূলতঃ এই  সময়েই টর্নেডোগুলি সবচেয়ে বেশী ক্ষতিসাধন করে থাকে ।
গ) অন্তিম পর্যায়ঃ এই পর্যায়ে ক্রমশঃ মেসোসাইক্লোনকে পিছন থেকে ঘিরে ধরে থাকা নিম্নগামী শুষ্ক বায়ু টর্নেডোকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তার বাতাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় । ফলে ঘূর্ণিটি ক্রমশঃ দুর্বল হতে শুরু করে এবং মূল টর্নেডোটি ধীরে ধীরে সরু ও রজ্জুসদৃশ দেখায় । এটিই হল টর্নেডোর জীবনচক্রের অন্তিম পর্যায়, যার স্থায়িত্ব থাকে মাত্র কয়েক মিনিট এবং এর পরপরই টর্নেডো বিলীন হয়ে যায় ।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s