ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone):

☻সংজ্ঞাঃ সাধারণত ৫° – ২০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে উৎপন্ন, সমুদ্রবক্ষে সৃষ্ট ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ঘূর্ণবাত ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বা উষ্ণমন্ডলীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone) নামে পরিচিত ।

অবস্থানগত বিন্যাসঃ পৃথিবীতে মূলতঃ সাতটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতপ্রবণ অঞ্চল দেখা যায় । যথা –
ক) উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশ এবং সংলগ্ন মেক্সিকো উপসাগর ও ক্যারাবিয়ান সাগর অঞ্চল;
খ) মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের নিকটস্থ প্রশান্ত মহাসাগর;
গ) উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশ এবং সংলগ্ন চীন সাগর ও জাপান সাগর;
ঘ) বঙ্গোপসাগর ও আরবসাগর;
ঙ) দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশ;
চ) দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পূর্বাংশ
এবং
ছ) দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের পশ্চিমাংশ ।
অবস্থানগত দিক দিয়ে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতগুলি উক্ত অঞ্চলগুলিতে বিভিন্ন নামে পরিচিত । যেমন –
১। টাইফুনঃ উৎপত্তিস্থল – চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর; প্রভাবিত স্থলভাগ – চীন, জাপান ও ফিলিপাইন্স দ্বীপপুঞ্জ
২। হ্যারিকেনঃ উৎপত্তিস্থল – ক্যারাবিয়ান সাগর ও মেক্সিকো উপসাগর; প্রভাবিত স্থলভাগ – মেক্সিকো ও পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ
৩। সাইক্লোনঃ উৎপত্তিস্থল – বঙ্গোপসাগর ও আরবসাগর; প্রভাবিত স্থলভাগ – ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা
৪। উইলি উইলিঃ উৎপত্তিস্থল – পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর; প্রভাবিত স্থলভাগ – অস্ট্রেলিয়া
৫। বাগুইওঃ উৎপত্তিস্থল – পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর; প্রভাবিত স্থলভাগ – ফিলিপাইন্স দ্বীপপুঞ্জ
৬। ক্যাটরিনা, রিটা, বিটাঃ উৎপত্তিস্থল – মেক্সিকো উপসাগর ও ক্যারাবিয়ান সাগর; প্রভাবিত স্থলভাগ – কানাডা ও USA
৭। টর্নেডোঃ উৎপত্তিস্থল – মিসিসিপি নদীর মোহনা ও মেক্সিকো উপসাগর; প্রভাবিত স্থলভাগ – USA – এর দক্ষিণ-পূর্বাংশ ও মেক্সিকো

বৈশিষ্ট্যঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ –
ক) নিম্নচাপযুক্ত কেন্দ্রঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে সর্বদা নিম্নচাপ বিরাজ করে । বিশেষক্ষত্রে এই নিম্নচাপ ৯০০ মিলিবারেরও নীচে নেমে যায়, যা শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের আভাস দেয় । ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২ রা সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডা উপকূলে সংঘটিত ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতটির কেন্দ্রস্থলে বায়ুর চাপ ছিল ৮৯২ মিলিবার । ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ই অগাষ্ট ফিলিপাইন্সের লুজন দ্বীপের কাছে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতটির কেন্দ্রে সর্বনিম্ন রেকর্ড ৮৮৭ মিলিবার নিম্নচাপ সৃষ্টি করেছিল ।
খ) বিস্তারঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের ব্যাস সাধারণত ২০০ – ৭০০ কিলোমিটার হলেও বিষয়ান্তরে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের বিস্তার ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশী অঞ্চল জুড়ে হতে পারে ।
গ) গতিবেগঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের গতিবেগ মূলতঃ ঘন্টায় ১০০ – ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে হলেও অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ঘূর্ণবাতের বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ অনেকসময় ঘন্টায় ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশী হয় ।
ঘ) সমচাপরেখার প্রকৃতিঃ মানচিত্রে কতকগুলি এককেন্দ্রিক সমচাপরেখার দ্বারা ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতকে দেখানো হয় । এই সমচাপরেখাগুলি সর্বদা বৃত্তাকার বা প্রায়বৃত্তাকার হয় ।
ঙ) ধ্বংসক্ষমতাঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত প্রায়শই ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে থাকে । অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ঘূর্ণবাত অত্যন্ত বিধ্বংসী হয় এবং প্রভাবিত অঞ্চলে ভয়ংকর ক্ষয়ক্ষতি এমনকি প্রাণহানিও ঘটায় ।
চ) স্থায়ীত্বঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত স্বল্পকালব্যাপী স্থায়ী হয়, কিন্তু ঐ স্বল্পকালের মধ্যেই তা দ্রুত বর্ধনশীল হয়ে বিস্তারলাভ করে প্রবলবেগে প্রবাহিত হয় ।
ছ) দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টিঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের প্রভাবে ঝড়, বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত সংঘটিত হয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সৃষ্টি করে ।
জ) স্থান পরিবর্তনঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে । যে পথ দিয়ে এটি গমন করে তাকে ঘূর্ণবাতের পথ (Cyclonic Track) বলা হয় । এটি প্রায়শই সমুদ্রের উপর দিয়ে ৩০০ – ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে থাকে ।

অনুকূল পরিবেশঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশগুলি হল নিম্নরূপ –
ক) সমুদ্রপৃষ্ঠস্থ উষ্ণতাঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হওয়ার জন্য সমুদ্রজলের উপরিভাগের উষ্ণতা ২৬°C – ৩০°C বা তারও বেশী হলে ভাল হয় । সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেশী হলে বাষ্পীভবনের মাত্রা বেশী হয়, ফলে প্রচুর জলীয় বাষ্প মিশে বায়ুমন্ডলে লীনতাপ সরবরাহ করে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সৃষ্টির জন্য আদর্শ পরিবেশ গড়ে ওঠে ।
খ) উষ্ণ জলের গভীরতাঃ সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণ জলের গভীরতা ৬০ – ৭০ মিটার হওয়া উচিৎ । এর ফলে পরিচলন স্রোত সৃষ্টি হয়ে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরী হয় ।
গ) কোরিওলিস বলঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সৃষ্টির জন্য কোরিওলিস বল যথেষ্ট হতে হবে, কেননা এই শক্তির প্রভাবে বায়ুতে আবর্তন সৃষ্টি হয় । নিরক্ষরেখার কাছাকাছি কোরিওলিস বলের পরিমান কম বলে নিরক্ষরেখা থেকে ৫° উঃ ও দঃ অক্ষাংশের মধ্যে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত একপ্রকার প্রায় সৃষ্টি হয়ই না বললে চলে ।
ঘ) অন্যান্য বায়ুমন্ডলীয় গোলযোগের উপস্থিতিঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সৃষ্টির আগে সমুদ্রের উপর অন্য কোনপ্রকার ক্রান্তীয় গোলযোগ অবস্থান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; যেমন – ক্রান্তীয় পূবালী বায়ুতরঙ্গ । এসব গোলযোগের কোন কোনওটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয় ।
ঙ) আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন বলয়ের ক্রান্তিকালীন অবস্থানঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের উৎপত্তি ও আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন বলয়ের ক্রান্তিকালীন অবস্থানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে । আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন বলয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত শান্ত বায়ুপ্রবাহ অঞ্চল বা ডোলড্রাম (Doldrum) যখন ৫° – ১০° অক্ষাংশ অঞ্চলে অবস্থান করে তখন সেখানে প্রায় ৬০% ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয় । অথচ আটলান্টিক মহাসাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপর আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন বলয় অঞ্চল নিরক্ষরেখার খুব একটা দক্ষিণে সরে যায় না বলে এই দুটি অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত একপ্রকার প্রায় সৃষ্টি হয়ই না বললে চলে ।
চ) উলম্ব বায়ুপ্রবাহের ব্যবর্তনঃ উলম্ব বায়ুপ্রবাহের ব্যবর্তন কম হওয়া প্রয়োজন । কোন অঞ্চলে উলম্ব বায়ুপ্রবাহের ব্যবর্তন বেশী হলে (জেট প্রবাহের নীচে), সেখানে বায়ু – আবর্ত বা ভর্টেক্স (Vortex) সৃষ্টি হয় না । ফলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতও সৃষ্টি হতে পারে না ।

সংঘটনের সময়ঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের প্রকোপ সবথেকে বেশী দেখা যায় উষ্ণ ঋতুতে মহাসাগরগুলির উষ্ণ অংশে, বিশেষ করে ক্রান্তীয় মহাসাগরগুলির পশ্চিমাংশে । সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণকে অনুসরণ করে আন্তঃক্রান্তীয় সম্মিলন বলয় অঞ্চল (ITCZ) যখন নিরক্ষরেখা থেকে সবথেকে দূরে সরে যায়, তখনই ঘূর্ণবাত সংঘটনের প্রক্রিয়া সবথেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে । ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত উৎপত্তির প্রধান ঋতু হল উত্তর গোলার্ধে নভেম্বর এবং দক্ষিণ গোলার্ধে জানুয়ারী থেকে মার্চ । তবে উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সংঘটনের একটি গৌণ ঋতুও আছে; সেটি হল মে থেকে জুন মাস ।

জীবনচক্রঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত – এর জীবনচক্র মূলতঃ চারটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় । যথা –
ক) উৎপত্তিগত পর্যায়ঃ ঘূর্ণবাত সৃষ্টির প্রথম পর্যায়ে কয়েক শত কিলোমিটার ব্যাপী বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর দিয়ে বায়ুপ্রবাহ বিভিন্ন গতিতে প্রবাহিত হতে থাকে । এইসময় কখনও কখনও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত হতে থাকে । সমুদ্র অঞ্চলের উপর বায়ুমন্ডলীয় চাপ হ্রাস পায় এবং ক্রমশঃ বাতাসের গতিবেগ বাড়তে থাকে । চারপাশের উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে বাতাস দ্রুত গতিতে আসে এবং পৃথিবীর আবর্তনজনিত গতির ফলে তা ঘূর্ণিতে পরিনত হয় । ঘূর্ণবাতের এইপ্রকার অবস্থানকে আবহাওয়া মানচিত্রে গোলাকৃতি রেখা দ্বারা দেখানো হয়ে থাকে । এপ্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার, অধিকাংশ ঘূর্ণবাতই এই উৎপত্তিগত পর্যায়েই বিনাশপ্রাপ্ত হয় । অবশিষ্ট যেগুলি এই অবস্থার পরেও বিকাশপ্রাপ্ত হয় তাদের কেন্দ্রীয়স্থলের নিম্নচাপ ৯৫০ মিলিবার থেকে ৯০০ মিলিবার অবধি নেমে যায় ।

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বা উষ্ণমন্ডলীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone)

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বা উষ্ণমন্ডলীয় ঘূর্ণবাত (Tropical Cyclone)

খ) বিকাশশীল পর্যায়ঃ এক একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে ১০০ – ২০০ টি ঝড়ো পুঞ্জ মেঘের সৃষ্টি হয় । ঘনীভবনের লীনতাপ সংযোজিত হয়ে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রভাগ উষ্ণ হয় । ঘূর্ণবাত যতই শক্তিশালী হয়, ততই তার কেন্দ্রভাগ উষ্ণ হয় । এই উষ্ণভাগকে ঘূর্ণবাতের উষ্ণ কোষ (Warm Core of Cyclone) বলে । এই উষ্ণ কোষই হল ঘূর্ণবাতের উৎপাদক শক্তি । এই উষ্ণ কোষ ঘূর্ণবাতের মোট ঘন পরিমাণের প্রায় ১% দখল করে থাকলেও এই কোষটিই সমগ্র ঘূর্ণবাতের সঞ্চালনকে প্রভাবিত করে । এই উষ্ণ কোষটিই যে পুনঃভরণ প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে তার প্রভাবেই ঘূর্ণবাতের তীব্রতা বাড়তে থাকে । এই পর্যায়ে বায়ুর চাপ হ্রাস অব্যাহত থাকে, ফলে বাতাসের গতি ক্রমবর্ধমান হয় । ক্রমশঃ এটি আরও বর্ধনশীল ঘূর্ণির আকারে কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘূর্ণায়মান হয় । আবহাওয়া বিষয়ক মানচিত্রে ঘূর্ণবাত নির্দেশক এই সমপ্রেষ রেখাগুলি প্রায় সম্পূর্ণ গোলাকার রূপ নেয় এদের মধ্যবর্তী ব্যবধান মাত্র ২ – ৩ মিলিবার থাকে । এইসময় কেন্দ্রাভিমুখী বাতাস  ২৫ – ৪০ কিলোমিটার / ঘন্টা গতিবেগে প্রবাহিত হতে থাকে । আবহাওয়াবিদ্গন এই অবস্থাকে ডিপ্রেশন (Depression) নাম দিয়েছেন ।

গ) পরিনত পর্যায়ঃ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের পরিনত পর্যায়কে চারভাগে বিভক্ত করা হয় । যথা –
১. পরিনত পর্যায়ে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্র থেকে ১৫ – ২০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে বায়ুতে কেবল আবর্তন দেখা যায় । এই এলাকার বায়ুর চাপ এত কম থাকে যে বায়ুতে নিমজ্জনের সৃষ্টি হয় । এর ফলে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রভাগের এই ১৫ – ২০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে কোনও মেঘ সৃষ্টি হয় না এবং ভূপৃষ্ঠের কাছে বায়ুতে শান্ত অবস্থার সৃষ্টি হয় । মেঘমুক্ত এই শান্ত কেন্দ্র অঞ্চলকে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের ঝড়ের চক্ষু (Eye of Cyclone) বলে ।
২. এই শান্ত অঞ্চলকে চতুর্দিক দিয়ে ঘিরে সৃষ্টি হয় ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ বলয় । এই অঞ্চলে বাতাসের গতি ঘন্টায় ৯০ – ১০০ কিলোমিটার বা তারও বেশী হয় । এই অঞ্চলের বিস্তার হয় মোটামুটি ৫০ – ১৫০ কিলোমিটার । এই অঞ্চলের অভ্যন্তরে বাতাসের চাপ দ্রুতহারে হ্রাস পায় ও প্রবল বৃষ্টিপাত সংঘটিত হতে থাকে ।
৩. এর পরবর্তী সৃষ্ট অংশটিতে বাতাস অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী থাকে এবং এই অঞ্চলটি ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রীয় নিম্নচাপ অঞ্চলটির সাথে অপ্রতিসমভাবে অবস্থান করে ।
৪. পরবর্তী অর্থাৎ শেষ সৃষ্ট অংশটি হল ঘূর্ণবাতের সীমান্ত অঞ্চল, যেটি সবথেকে দুর্বল প্রকৃতির হয় ।

ঘ) অন্তিম পর্যায়ঃ গতিশীল ঘূর্ণবাত যতই সমুদ্রভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, ততই তাতে জলীয় বাষ্প ও লীনতাপের সরবরাহ কমতে থাকে । এর সাথে যুক্ত হয় স্থলভাগের ঘর্ষণজনিত পশ্চাৎটান । এই সকল কারণে এই অন্তিম পর্যায়ে স্থলভাগে পৌছানোর পর ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত দ্রুত দুর্বল হয়ে অবলুপ্ত হয় ।

3 comments

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s