অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind) ও ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind):

☻অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind)ব্যুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘Anabatic’ – শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ‘Anabaino’ থেকে, যার অর্থ হলো ঊর্দ্ধগামী

সংজ্ঞাঃ দিনের বেলা সূর্যকিরণের প্রভাবে পর্বতের মধ্যভাগের তুলনায় উর্দ্ধভাগ ও উপত্যকার তলদেশ অপেক্ষাকৃত বেশী উত্তপ্ত হয়ে পড়ে । যার ফলে সংশ্লিষ্ট বায়ুস্তরও উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে পর্বতের গা বেয়ে এবং উপত্যকার উজান বরাবর উপরের দিকে প্রবাহিত হয় । উপত্যকার উজান বরাবর প্রবাহিত ঊর্দ্ধগামী বায়ুকে উপত্যকা বায়ু (Valley Wind) ও পর্বতের ঢাল বরাবর উপরের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে ঊর্দ্ধঢাল বায়ু (Upslope Wind) বলে । এই ঊর্দ্ধঢাল বায়ুরই অপর নাম অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind)।

উদাঃ ভারতের হিমাচল প্রদেশের কুলু ও কাংড়া উপত্যকায় দিনের বেলা এইপ্রকার বায়ু প্রবাহিত হয় ।

বৈশিষ্ট্যঃ অ্যানাবেটিক বায়ু – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) সূর্য ওঠার কিছু পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এইপ্রকার বায়ুপ্রবাহ চলতে থাকে । তবে এইপ্রকার বায়ুর গতিবেগ সবথেকে বেশী হয় দুপুরের কিছু সময় পর ।
খ) এইপ্রকার বায়ু মূলত পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির বন্ধুরতার জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে ।
গ) ঊর্দ্ধমুখী এই বায়ুপ্রবাহ পর্বতচূড়ার কিছু উপরে উঠে কিছুকাল অবস্থানের পর বিপরীত উপত্যকা বায়ু (Anti-valley Wind) হিসাবে ফিরে আসে ।
ঘ) পার্বত্য অঞ্চলে এভাবে প্রতিদিনই দিনের বেলায় এইপ্রকার বায়ু সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে দুর্যোগপূর্ণ বায়বীয় গোলযোগের সময় (যেমন – ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত) এইপ্রকার বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় ।

প্রভাবঃ অ্যানাবেটিক বায়ুর প্রভাবে পার্বত্য অঞ্চলের ঊর্দ্ধভাগ অপেক্ষাকৃত উষ্ণ থাকে, যার ফলে আবহাওয়াও অপেক্ষাকৃত মনোরম ও আরামদায়ক থাকে । স্বাভাবিকভাবেই তাই  এইপ্রকার বায়ু প্রভাবিত পর্বতের ঊর্দ্ধভাগে জনবসতি অপেক্ষাকৃত বেশী হয় ।


☻ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind)ব্যুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘Katabatic’ – শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ‘Katabaino’ থেকে, যার অর্থ হল নিম্নগামী

সংজ্ঞাঃ রাতের বেলা বিকিরণের ফলে পর্বতের গা এবং উপত্যকা শীতল হয়ে পড়ে । শীতল ভূমির সংস্পর্শে এসে ভূমি সংলগ্ন বায়ুও শীতল হয় । ফলে এই শীতল ও ভারী বায়ু পর্বতের গা ও উপত্যকা বেয়ে নীচের দিকে নেমে আসে । রাতের বেলা উপত্যকা বেয়ে নিম্নগামী এই বায়ুপ্রবাহকে পার্বত্য বায়ু (Mountain Wind) ও পর্বতের গা বেয়ে নীচের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind) বলে ।

উদাঃ ভারতের হিমাচল প্রদেশের কুলু ও কাংড়া উপত্যকায় রাতের বেলা এইপ্রকার বায়ু প্রবাহিত হয় ।

বৈশিষ্ট্যঃ ক্যাটাবেটিক বায়ু – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) সূর্যাস্তের কিছু পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এইপ্রকার বায়ুপ্রবাহ চলতে থাকে । তবে এইপ্রকার বায়ুর গতিবেগ সবথেকে বেশী হয় শেষ রাতে ।
খ) এইপ্রকার বায়ু মূলত পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির বন্ধুরতার জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে ।
গ) পার্বত্য অঞ্চলে এভাবে প্রতিদিনই রাতের বেলায় এইপ্রকার বায়ু সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে দুর্যোগপূর্ণ বায়বীয় গোলযোগের সময় (যেমন – ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত) এইপ্রকার বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় ।

প্রভাবঃ ক্যাটাবেটিক বায়ুর প্রভাবে পার্বত্য অঞ্চলের নিম্নভাগ অপেক্ষাকৃত শীতল হয়ে পড়ে, যার ফলে আবহাওয়াও রুক্ষ ও কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে এবং রাত বাড়ার সাথে সাথে যার তীব্রতাও ক্রমশ বাড়তে থাকে । স্বাভাবিকভাবেই তাই এইপ্রকার বায়ু প্রভাবিত পর্বতের নিম্নভাগে জনবসতি অপেক্ষাকৃত কম হয় ।

3 thoughts on “অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind) ও ক্যাটাবেটিক বায়ু (Katabatic Wind):

  1. Pingback: বায়ুপ্রবাহ (Winds): | bhoogolok.wordpress.com

  2. Pingback: পম্পেরো (Pampero): – bhoogolok.com

  3. Pingback: বায়ুপ্রবাহ (Winds): – bhoogolok.com

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.