মৌসুমী বায়ু (Monsoon Wind):

☻ব্যুৎপত্তিগত অর্থঃ মৌসুমী (Monsoon) শব্দটি আরবি শব্দ ‘মৌসিম’ বা মালয়ী শব্দ ‘মনসিন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হল ঋতু । ১৬৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডের আবহবিদ এডমন্ড হ্যালি (Edmond Halley) সর্বপ্রথম Monsoon শব্দটি ব্যবহার করেন ।

সংজ্ঞাঃ বায়ুচাপ ও বায়ুর উষ্ণতার পার্থক্যের ফলে বছরের নির্দিষ্ট ঋতুতে নির্দিষ্ট দিক থেকে প্রবাহিত ও নির্দিষ্ট অভিমুখে ধাবিত বায়ুপ্রবাহকে মৌসুমী বায়ু (Monsoon Wind) বলে ।
H.J. Critchfield এর ভাষায় “In several parts of the world seasonally prevailling wind known as Monsoon”.

প্রভাবিত অঞ্চলঃ মৌসুমী বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত অঞ্চলগুলিকে হল নিম্নরূপ –
ক) প্রকৃত মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলঃ যথা – ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ, চীনের দক্ষিণ অংশ প্রভৃতি ।
খ) মৌসুমীপ্রবণ অঞ্চলঃ যথা – নাইজেরিয়া, গিনি, আইভরি কোস্ট, মাদাগাস্কারের পশ্চিমাংশ প্রভৃতি ।
গ) ঈষৎ মৌসুমীপ্রবণ অঞ্চলঃ যথা – পুর্তেরিকো, ডোমেনিকান প্রজাতন্ত্র প্রভৃতি ।
ঘ) পরোক্ষ মৌসুমী প্রভাবিত অঞ্চলঃ যথা – ভেনেজুয়েলার পূর্বাংশ, গায়ানা, সুরিনাম, ব্রাজিলের উত্তর – পূর্বাংশ প্রভৃতি।

বৈশিষ্ট্যঃ মৌসুমী বায়ু – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) বায়ুপ্রবাহের অভিমুখঃ ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে মৌসুমী বায়ুও তার অভিমুখ পরিবর্তন করে । সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মৌসুমী বায়ু গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ – পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় এবং শীতকালে তা অভিমুখ পরিবর্তন করে উত্তর – পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হয় ।
খ) আর্দ্র গ্রীষ্মকালঃ দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ু জলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে প্রচুর জলীয় বাষ্প বহন করে, যার প্রভাবে গ্রীষ্মের শেষভাগে বছরের অধিকাংশ বৃষ্টিপাত হয় । তাই আর্দ্র গ্রীষ্মকাল মৌসুমী বায়ুর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ।
গ) শুষ্ক শীতকালঃ শীতকালে উত্তর – পূর্ব মৌসুমী বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে এতে জলীয় বাষ্প বিশেষ থাকে না । সেইজন্য শীতকাল শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে । তাই শুষ্ক শীতকালও মৌসুমী বায়ুর অন্যতম অপর একটি বৈশিষ্ট্য । [অবশ্য পশ্চিমি ঝঞ্ঝা বা পশ্চিমি ঝামেলার (Western Disturbance) প্রভাবে এইসময় কোথাও কোথাও মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ]
ঘ) মৌসুমী বিষ্ফোরণ (Burst of Monsoon): গ্রীষ্মের প্রথমার্ধ থেকেই ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল উত্তপ্ত হতে শুরু করে । জুন মাসের মাঝামাঝি পাঞ্জাবের নিম্নচাপ বলয় অধিক শক্তিসম্পন্ন হয়ে উঠলে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ – পশ্চিম বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ বৃদ্ধি পায় এবং তা অকস্মাৎ দক্ষিণ ভারতে প্রবেশ করে পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে আত্মপ্রকাশ করে । একে মৌসুমী বিষ্ফোরণ (Burst of Monsoon) বলা হয় । মৌসুমী বিষ্ফোরণের মধ্য দিয়েই ভারতে দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমীবায়ুজনিত মৌসুমী বৃষ্টিপাতের সূচনা হয় এবং তা ক্রমশ সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে বিস্তার লাভ করতে থাকে ।
ঙ) অনিয়মিত বৃষ্টিপাতঃ মৌসুমী বায়ুজনিত বৃষ্টিপাত খুবই অনিয়মিত প্রকৃতির । কোথাও অত্যাধিক বৃষ্টিপাতের (আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও বাংলাদেশের স্থানবিশেষ) জন্য যেমন বন্যার সৃষ্টি হয়, তেমনই আবার কোথাও বৃষ্টিপাতের অভাবে (রাজস্থান, হরিয়ানার স্থানবিশেষ) খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ।
চ) সমুদ্র বায়ু ও স্থল বায়ুর বৃহৎ সংস্করণঃ মূলত দিনের বেলা (বিশেষত অপরাহ্নে) সমুদ্রভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে সমুদ্র বায়ু (Sea Breeze) বলে । আবার, মূলত সন্ধ্যাবেলার পর থেকে সারা রাত্রি (বিশেষত ভোরবেলা) স্থলভাগ থেকে সমুদ্রভাগের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে স্থল বায়ু (Land Breeze) বলে ।
অপরদিকে, গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ ও জলভাগের তারতম্যের ফলে মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটে । মে – জুন মাসে ভারত তথা দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ায় প্রচন্ড উষ্ণতা থাকে বলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় । আবার, জলভাগ তথা ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর অপেক্ষাকৃত কম উষ্ণ থাকার ফলে সেখানে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয় এবং এই চাপের ঢালবরাবর দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমন ঘটে । অতএব বোঝা যাচ্ছে যে অন্য দুই সাময়িক বায়ু যথা সমুদ্র বায়ু ও স্থল বায়ুর মত মৌসুমী বায়ুও মূলতঃ বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্যের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে । তফাৎ শুধু এটাই যে সমুদ্র বায়ু ও স্থল বায়ু দৈনিক তাপ ও চাপের তারতম্যের ফলে সৃষ্ট এবং মৌসুমী বায়ু ঋতুভিত্তিক তাপ ও চাপের তারতম্যের ফলে সৃষ্ট । এইজন্যই ক্ষেত্রবিশেষে মৌসুমী বায়ুকে সমুদ্রবায়ুস্থলবায়ু – র বৃহৎ সংস্করণ বলা হয়
ছ) অনিয়মতাঃ মৌসুমী বায়ুর আগমনকাল ও প্রত্যাগমনকাল প্রত্যেক বছরই কিছুটা অনিয়মিত প্রকৃতির হয়ে থাকে । কোনো বছর তা এগিয়ে সূচনা হয়, আবার কখনও তা বিলম্বিত হয় ।

শ্রেণীবিভাগঃ মৌসুমী বায়ুকে বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে মূলত দুইটি ভাগে ভাগ করা আলোচনা করা হয় । যথা – ক) গ্রীষ্ম মৌসুমী (Summer Monsoon) ও খ) শীত মৌসুমী (Winter Monsoon) । নিম্নে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –
ক) গ্রীষ্ম মৌসুমী (Summer Monsoon): গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ মে – জুন মাসে উত্তর গোলার্ধে সূর্য আপাত গতিতে কর্কটক্রান্তির নিকটে আসে । কর্কটক্রান্তীয় অঞ্চলে জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ অধিক । এই স্থলভাগের অন্তর্গত মধ্য – এশিয়া, উত্তর – পশ্চিম ভারত, আফ্রিকার গিনি উপকূল প্রভৃতি অঞ্চল গ্রীষ্মকালে খুবই উত্তপ্ত হয়ে পড়ে । ফলে এই অঞ্চলের বায়ুও উষ্ণ ও হালকা হয়ে এইসকল স্থানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় । কিন্তু, নিকটবর্তী ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগ স্বাভাবিকভাবেই অপেক্ষাকৃত শীতল থাকে । ফলে এই অঞ্চলের বায়ুও শীতল ও ভারী হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় । গ্রীষ্মকালে এই উচ্চচাপের সমুদ্রবায়ুপ্রবাহ উল্লিখিত স্থলভাগের নিম্নচাপ অঞ্চলের শূণ্যস্থান পূরণ করার জন্য স্থলভাগের নিম্নচাপকেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয় । একে গ্রীষ্ম মৌসুমী (Summer Monsoon) বলে । এইসময় মূলত দুইপ্রকার গ্রীষ্ম মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয় । যথা –
১. দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (South – West Monsoon): গ্রীষ্মকালে সূর্যের উত্তরায়ণের সাথে সাথে তাবিষুবরেখাও নিরক্ষরেখার ৫° উত্তরে সরে যায় । তাপবিষুবরেখা উত্তরে সরে যাওয়ার সাথে সাথে দক্ষিণ – পূর্ব আয়ন বায়ুও উত্তর দিকে তাপবিষুবরেখাকে অনুসরণ করে সরতে আরম্ভ করে । কিন্তু, এটি নিরক্ষরেখাকে অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে তা ডানদিকে বেঁকে দক্ষিণ – পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে থাকে । এটিই দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (South – West Monsoon) নামে পরিচিত । এই বায়ুর বেগ এতই প্রবল হয় যে এইসময় উত্তর – পূর্ব আয়ন বায়ুর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় ।
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মায়ানমার, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশ এই বায়ু দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয় । এই দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর যে শাখা আরবসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আরবসাগরীয় শাখা বলে এবং যে শাখা বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখা বলে ।
২. দক্ষিণ – পূর্ব মৌসুমী বায়ু (South – East Monsoon): এশিয়ার মধ্যভাগে গোবি মরুভূমিতে অধিক উষ্ণতার জন্য নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় । যে কারণে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চলগুলি থেকে বাতাস এই অঞ্চলের নিম্নচাপের দিকে ধাবিত হয় । কিন্তু, গোবি মরুভূমির উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে স্থলভাগ থাকার ফলে এইসকল দিক থেকে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক প্রকৃতির হয় । কেবলমাত্র দক্ষিণ – পূর্ব ও পূর্বস্থ প্রশান্ত মহাসাগর থেকে একটি জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে, যেটি দক্ষিণ – পূর্ব মৌসুমী বায়ু (South – East Monsoon) নামে পরিচিত ।
এই বায়ুর প্রভাবে চীন, জাপানসহ পার্শ্ববর্তী দেশুলিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ।

খ) শীত মৌসুমী (Winter Monsoon): দক্ষিণায়ণের সাথে সাথে সূর্য ক্রমশ দক্ষিণে সরে যেতে থাকে এবং লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে । সেইজন্য মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চলের যথা – উত্তর – পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাংশের উপরিস্থিত বায়ু উষ্ণ হয় এবং এইসকল অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় । কিন্তু, এইসময় মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল শীতল থাকে এবং সেখানে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় । ফলে উক্ত স্থলভাগের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে সমুদ্রভাগের নিম্নচাপ অঞ্চলের শূণ্যস্থানের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয় । একে শীত মৌসুমী (Winter Monsoon) বলে ।
এইসময় মূলত দুইটি বায়ু প্রবাহিত হয় । যথা –
১. উত্তর – পূর্ব মৌসুমী বায়ু (North – East Monsoon): মধ্য এশিয়ার উচ্চচাপযুক্ত স্থলভাগ থেকে শীতল ও শুষ্ক বায়ু সমুদ্রভাগের দিকে প্রবাহিত হয় । ভারতে এটি পাঞ্জাবের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে গাঙ্গেয় উপত্যকার মধ্য দিয়ে পূর্বদিকে এসে পরবর্তীতে উত্তর – পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় । একে উত্তর – পূর্ব মৌসুমী বায়ু (North – East Monsoon) বলে ।
স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসে বলে এই বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয় না । তবে উত্তর – পূর্ব মৌসুমী বায়ুর একটি অংশ জাপান সাগর অতিক্রম করে আসার ফলে জলীয় বাষ্পপূর্ণ হয়ে জাপানে এবং অপর অংশ বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে আসার ফলে জলীয় বাষ্পপূর্ণ হয়ে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু ও শ্রীলংকায় শীতকালেও বৃষ্টিপাত ঘটায় ।
২. উত্তর – পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (North – West Monsoon): এই মৌসুমী বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে বামদিকে বেঁকে ভারত মহাসাগর থেকে প্রবাহিত হলে তাকে উত্তর – পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (North – West Monsoon) বলে ।
এই বায়ুর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে ।

মৌসুমী বায়ুর উপর জেট বায়ুর প্রভাবঃ মৌসুমী বায়ুর উভয় শাখার উপরই জেট বায়ুর বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায় । নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –
ক) দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ও জেট বায়ুপ্রবাহঃ উত্তর গোলার্ধে ২০° – ৩৫° অক্ষাংশবরাবর অবস্থিত উপক্রান্তীয় পশ্চিমি জেটবায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চচাপ বলয় দুর্বল হয়ে পড়ায় ক্রমশ উত্তর দিকে স্থানান্তরিত হতে থাকে । গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমি জেট বায়ুপ্রবাহ হিমালয়ের উত্তরে অবস্থান করে । এইসময় আবার তিব্বতের মালভূমি অঞ্চলে তীব্র উত্তাপে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে ১৩° – ১৫° উত্তর অক্ষাংশ বরাবর ক্রান্তীয় পূবালী জেট ভারতে প্রবেশ করে এবং তা মোটামুটি ১৫ – ১৬ কিমি উচ্চতায় অবস্থান করতে থাকে । এই পূবালী জেট কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সঞ্চার ঘটিয়ে তিব্বতের মালভূমি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বজ্রবিদ্যুতসহ বৃষ্টিপাত ঘটায় । ক্রমশ এই পূবালী জেট এগিয়ে এসে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট উচ্চচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি ফিয়ে অবস্থান করতে থাকে, যার ফলে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর ভারতে প্রবেশ করতে সুবিধা হয় । এমনকি মৌসুমী বিষ্ফোরণেও এই পূবালী জেটবায়ুর যথেষ্ট প্রভাব থাকে । তাই স্পষ্টতই দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর উপর জেটবায়ুর (ক্রান্তীয় পূবালী জেট) প্রভাব গুরুত্বপূর্ণভাবে লক্ষণীয় ।
খ) উত্তর – পূর্ব মৌসুমী বায়ু ও জেট বায়ুপ্রবাহঃ পূবালী জেট বায়ুর প্রভাব যেমন নিম্ন বায়ুমন্ডলে থাকে, তেমনই উর্দ্ধ ট্রপোস্ফিয়ারে থাকে পশ্চিমি জেট বায়ুর প্রভাব । এই পশ্চিমি জেট বায়ুপ্রবাহ শীতকালীন পশ্চিমি ঝামেলাকে (Western Disturbance) নিয়ন্ত্রণ করে থাকে । পশ্চিমি জেট বায়ু ঘূর্ণবাতগুলিকে অধিক সক্রিয় করে তোলে এবং উত্তর – পশ্চিম ভারতে ঘূর্ণবৃষ্টিপাত ঘটায় । রসবি তরঙ্গজনিত প্রভাবে ভারতের দক্ষিণ অংশসহ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকে, যা প্রাক – মৌসুমী বৃষ্টিপাত (Pre – Monsoon Rainfall) নামে পরিচিত ।

5 thoughts on “মৌসুমী বায়ু (Monsoon Wind):

  1. Pingback: বায়ুপ্রবাহ (Winds): | bhoogolok.wordpress.com

  2. Pingback: মনেক্স (MONEX): | bhoogolok.wordpress.com

  3. Pingback: কালবৈশাখী (Kalboishakhi): – bhoogolok.com

  4. Pingback: মনেক্স (MONEX): – bhoogolok.com

  5. Pingback: বায়ুপ্রবাহ (Winds): – bhoogolok.com

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.