খাঁড়ি (Estuary / Firth):

☻সংজ্ঞাঃ নদী ও সমুদ্রের মিলনস্থলে নদীর মোহনা যথেষ্ট গভীর, উন্মুক্ত ও প্রশস্ত আকৃতিবিশিষ্ট হলে তাকে খাঁড়ি (Estuary / Firth) বলে ।

উদাঃ ওব নদীর মোহনাসংশ্লিষ্ট খাঁড়িটি পৃথিবীর দীর্ঘতম খাঁড়ি । এছাড়াও আমাজন, টেমস, ফোর্থ প্রভৃতি নদীর খাঁড়িও পৃথিবীর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাঁড়ির উদাহরণ ।

উৎপত্তিঃ মোহনার নিকট নদীর স্রোত অথবা জোয়ারের প্রকোপ অপেক্ষাকৃত বেশী হলে নদীবাহিত পলি, বালি, কাদা প্রভৃতি মোহনা অঞ্চলে সঞ্চিত হতে পারে না । ফলে জোয়ারের জল প্রবলবেগে নদীর মধ্যে প্রবেশ করে মোহনাসংশ্লিষ্ট নদীখাঁতকে ক্ষয় করে অধিক গভীর ও প্রশস্ত (চ্যাপ্টা বোতল বা ফানেল আকৃতির) করে তুলতে থাকে এবং ক্রমশ খাঁড়ির সৃষ্টি হয় ।

নিয়ন্ত্রকসমুহঃ একটি আদর্শ খাঁড়ি অঞ্চল সৃষ্টি হওয়ার নিয়ন্ত্রকগুলি হল –
ক) নদীর জলপ্রবাহ ও জোয়ারের স্রোতের আপেক্ষিক শক্তির উৎস,
খ) নদী মোহনা – র গঠন ও আকৃতি,
গ) ড্রেজিং – এর মত কৃত্রিম কারণ প্রভৃতি ।

বৈশিষ্ট্যঃ খাঁড়ি – র বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ –
ক) এটি গভীর, উন্মুক্ত ও প্রশস্ত হয় ।
খ) একটি আদর্শ খাঁড়ি অঞ্চলে ব-দ্বীপ গঠনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় ।
গ) খাঁড়ির মধ্য দিয়ে সমুদ্রের জোয়ারের জল নদীতে প্রবেশ করে এবং নদীর মধ্য দিয়ে স্থলভাগের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হয় । একে বান (Bore) বলে ।
ঘ) খাঁড়ি অঞ্চল পলিমুক্ত থাকার কারণে পরিস্কার ও গভীর থাকে, ফলে জাহাজ চলাচল সুবিধাজনক হয় ।
ঙ) এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতান্ত্রিক অঞ্চল হিসাবে বিবেচিত হয় ।

4 comments

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s