অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ( Ox-bow Lake):

☻সংজ্ঞাঃ সমভূমি প্রবাহ ও ব-দ্বীপ প্রবাহে নদী বড় বড় বাঁক নিয়ে অগ্রসর হয় । বিশেষক্ষেত্রে এই প্রকার কোনো নদীবাঁক মূল নদীপ্রবাহের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে মূল নদীর পাশে অশ্ব বা ঘোড়ার ক্ষুরের মত আকৃতিতে অবস্থান করলে, তাকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ( Ox-bow Lake) বলে ।

উদাঃ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভাগীরথী নদীর প্রবাহপথের পাশে এরকম অনেক অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায় ।

উৎপত্তিঃ অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ মূলতঃ তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় । যথা –
 ক) প্রথম পর্যায়ঃ পার্বত্য প্রবাহের পর নদী সমভূমি প্রবাহে ও ব-দ্বীপ প্রবাহে স্বাধীনভাবে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ পায় । এমতাবস্থায়, প্রবাহপথে নদী কোনো বড় বাঁধার সম্মুখীন হলে অথবা নদীখাতে সঞ্চয়ের ফলে বিশাল চর সৃষ্টি হলে নদী অস্বাভাবিক সর্পিলাকার আঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হতে থাকে ।
খ) দ্বিতীয় পর্যায়ঃ নদীর এই সর্পিলাকার প্রবাহের ফলে সৃষ্টি হয় বিশাল বিশাল নদীবাঁক । এই নদীবাঁকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর জলধারা দুই তীরে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় । নদীর অবতল তীরে অর্থাৎ, বাঁক ঘোরার সময় নদীর যে স্থান সোতের ঠিক সম্মুখে থাকে সেখানে জলস্রোত ক্ষয় করে । ফলে ঐ স্থান ক্রমশ ভাঙতে থাকে । অপরদিকে, বিপরীততীরে অর্থাৎ  উত্তল তীরে স্রোতের আঘাত বিশেষ না থাকার ফলে কিছু সঞ্চয় হতে থাকে । এইভাবে ক্রমান্বয়ে নদীর বাঁক ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং বাঁকের মধ্যবর্তী স্থান সংকীর্ণ হতে থাকে ।
এবং
গ) তৃতীয় পর্যায়ঃ কালক্রমে এই সামান্য ব্যবধানও অবশেষে লুপ্ত হয় এবং নদী তার পুরোনো প্রবাহ ত্যাগ করে সোজা পথে প্রবাহিত হতে শুরু করলে নদীবাঁকের এই অংশ প্রধান নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার পাশে অবস্থান করে । এই বিচ্ছিন্ন অংশের সাথে প্রথমদিকে মূল নদীর সম্পর্ক থাকে এবং বন্যার সময় এই হ্রদে নদীর জল প্রবেশ করে । কিন্তু, সময়ের সাথে সাথে এক পর্যায়ে এই হ্রদ প্রধান নদী থেকে সম্পুর্ণ আলাদা হয়ে যায় এবং স্বতন্ত্রভাবে (ঘোড়ার ক্ষুরের ন্যায় অর্ধচন্দ্রাকারে) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ রূপে অবস্থান করে ।

বৈশিষ্ট্যঃ অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ –
ক) সময়ের সাথে সাথে এটি ক্রমশ একটি মজে যাওয়া জলাভূমিতে পরিনত হয় ।
খ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি ও তা পরিত্যাগের মধ্য দিয়ে নদী তার আঁকাবাঁকা পথ ছেড়ে কিছুটা সোজা পথে অগ্রসর হয় ।
গ) এটি মূলত নিম্নপ্রবাহে দেখা গেলেও অনেকসময় নদীর মধ্যপ্রবাহেও সৃষ্টি হতে পারে ।

4 comments

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s