অন্তঃসলিলা নদী বা ফল্গু নদীঃ

☻সংজ্ঞাঃ (মূলতঃ চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে বা লবনশিলাযুক্ত অঞ্চলে দ্রবণ ক্রিয়ার ফলে) ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত নদী ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবাহিত সেই নদীকে অন্তঃসলিলা নদী বা অন্তঃসলিলা নদী বা ফল্গু নদী বলে ।

উদাঃ যুগোশ্লাভিয়ার (বর্তমানে বসনিয়া, হারজিগোভেনিয়া) কার্স্ট অঞ্চলে অনেকগুলি অন্তঃসলিলা নদী বা ফল্গু নদী অবস্থিত ।

বৈশিষ্ট্যঃ  অন্তঃসলিলা নদী বা ফল্গু নদী – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্তঃসলিলা নদী বা ফল্গু নদী কিছুপথ ভূ-অভ্যন্তরস্থ প্রবাহের পরে (মূলতঃ সংশ্লিষ্ট শিলাস্তর শেষ হওয়ার পর) পুনরায় ভূ-পৃষ্ঠে প্রকাশিত হয় ।
খ) এইপ্রকার নদীগুলি মূলতঃ দ্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট ছোট-বড় অসংখ্য অপসারণজনিত গর্তের মধ্য দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ।
গ) এটি মূল নদীপ্রবাহের একটি সীমাবদ্ধ প্রবাহরূপ ।
ঘ) অনেকক্ষেত্রে নদী উচ্চপ্রবাহ শেষ করে সমভূমিতে নেমে পলল ব্যজনী অঞ্চলের অসংখ্য নুড়ি-শিলাখন্ডের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় নিজ প্রবাহ হারিয়ে ফেলে ঐসব অধঃক্ষেপিত পদার্থের তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েও অন্তঃসলিলা নদী বা ফল্গু নদীরূপে প্রবাহিত হয় । উদাঃ ভাবর অঞ্চলে বড় বড় প্রস্তরখন্ড, নুড়ি প্রভৃতির তলায় হিমালয়ের ক্ষুদ্র নদীগুলি হারিয়ে যায় এবং দক্ষিণে তরাই অঞ্চলে এই অন্তঃসলিলা নদীগুলিকে পুনরায় প্রকাশিত হতে দেখা যায় ।

One comment

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s