নদীর পার্শ্বচিত্র (River Profie):

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

☻সংজ্ঞাঃ দৈর্ঘ্য বরাবর বা প্রস্থ বরাবর নদী উপত্যকার প্রবাহপথকে কোনো রেখার দ্বারা যুক্ত করলে যে রেখাচিত্রটি পাওয়া যায়, তাকে নদীর পার্শ্বচিত্র (River Profie) বলে ।

শ্রেণীবিভাগঃ নদীর পার্শ্বচিত্র দুই প্রকার । যথা – ক) প্রস্থ বরাবর বা আড়াআড়ি পার্শ্বচিত্র এবং খ) দৈর্ঘ্য বরাবর বা অনুভূমিক পার্শ্বচিত্র । নিম্নে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো –

ক) প্রস্থ বরাবর বা আড়াআড়ি পার্শ্বচিত্রঃ
নদীর এক পাড় থেকে অপর পাড়ের তীরভূমি পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে কোনো রেখা অঙ্কন করলে যে রেখাচিত্র পাওয়া যায়, তাকে নদীর প্রস্থ বরাবর বা আড়াআড়ি পার্শ্বচিত্র বলে ।
নিয়ন্ত্রকঃ নদীর প্রস্থ বরাবর বা আড়াআড়ি পার্শ্বচিত্রের আকৃতি মূলতঃ নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর নির্ভর করে । যথা – ১. নদীতে জলের পরিমান, ২. নদী উপত্যকার শিলাস্তরের গঠন ও প্রকৃতি ৩. নদী অববাহিকার জলবায়ুর প্রকৃতি প্রভৃতি ।
শ্রেণীবিভাগঃ নদীর উৎস থেকে মোহনা অবধি মূলতঃ তিন প্রকার প্রস্থ বরাবর বা আড়াআড়ি পার্শ্বচিত্র পাওয়া যায় । যথা –
১. খাড়া ঢালবিশিষ্ট পার্শ্বচিত্রঃ নদীর উচ্চ প্রবাহ বা পার্বত্য প্রবাহের শুরুতে ইংরাজী ‘V’-আকৃতি বা ‘I’-আকৃতির মত খাড়া ঢালবিশিষ্ট পার্শ্বচিত্র পাওয়া যায় ।
২. মৃদু ঢালবিশিষ্ট পার্শ্বচিত্রঃ নদীর মধ্যগতির সমভূমি প্রবাহে নদীর মৃদু ঢালবিশিষ্ট পার্শ্বচিত্র পাওয়া যায় ।
এবং
৩. অতিমৃদু বা প্রায় সমতল পার্শ্বচিত্রঃ নদীর নিম্ন প্রবাহ বা ব-দ্বীপ প্রবাহে এরূপ অতিমৃদু বা প্রায় সমতল পার্শ্বচিত্র সৃষ্টি হয় ।

খ) দৈর্ঘ্য বরাবর বা অনুভূমিক পার্শ্বচিত্রঃ
নদীর উৎস থেকে মোহনা অবধি নদীর প্রবাহ পথকে উচ্চতা অনুসারে অঙ্কন করলে যে রেখাচিত্র পাওয়া যায়, তাকে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর বা অনুভূমিক পার্শ্বচিত্র বলে । নদী যে ভূমিভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তা প্রাথমিক অবস্থায় অসমতল প্রকৃতির হয় । ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর পার্শ্বচিত্রও অসমতল হয় । বহুদিন ধরে বিভিন্ন কার্যের ফলে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর ঢালের পার্শ্বচিত্রে মূলতঃ তিনটি পরিবর্তন হয় । যথা-
১. নদীর প্রাথমিক পর্যায়ে সমতল ভূমিভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় ভূমিভাগ অপেক্ষাকৃত অনেক নীচু হয়ে যায় ।
২. নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর ঢালু পার্শ্বচিত্র মোহনার দিক থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নদীর মধ্য প্রবাহ ও উর্দ্ধ প্রবাহের দিকে ক্রমশঃ মসৃণ হতে থাকে ।
এবং
৩. নদী উৎস অঞ্চল থেকে ক্ষয়কার্যের ফলে আরও উপরে মস্তকের দিকে এগিয়ে যায় । এইভাবে নদী সর্বদা তার দৈর্ঘ্য বরাবর অসমতল ঢালের পার্শ্বচিত্রকে সমুদ্রপৃষ্ঠের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মসৃণ করার চেষ্টা করে এবং অবশেষে বহুকাল পরে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর ঢালের পার্শ্বচিত্র মসৃণ খিলানের ন্যায় পর্যায়ক্রমে উৎসস্থল থেকে মোহনার দিকে নেমে যায় ।
নিয়ন্ত্রকঃ নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর বা অনুভূমিক পার্শ্বচিত্রের আকৃতি মূলতঃ নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর নির্ভর করে । যথা- ১. নদীতে জলের পরিমান, ২. নদী উপত্যকার শিলাস্তরের গঠন ও প্রকৃতি, ৩. সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ঢাল, ৪. শিলাস্তরের বিন্যাস প্রভৃতি ।
বৈশিষ্ট্যঃ দৈর্ঘ্য বরাবর বা অনুভূমিক পার্শ্বচিত্র – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর পার্শ্বচিত্র নদী প্রবাহিত ভূমিঢালের অনুরূপ হয়ে থাকে ।
খ) নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর পার্শ্বচিত্র সম্পূর্ণভাবে মসৃণ অর্থাৎ পর্যায়িত ঢালে পরিনত হওয়ার আগেই সাধারনত জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় ।
গ) সমুদ্রপৃষ্ঠের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই সব নদীঢালের পার্শ্বচিত্র গড়ে ওঠে ।
ঘ) বিশেষ ক্ষেত্রে হ্রদে মিলিত নদীর নিম্ন দিকে ক্ষয় করার শেষ সীমা সেই হ্রদটি হওয়ায় ঐ হ্রদের জলপৃষ্ঠের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই নদী তার ঢালের পার্শ্বচিত্র গঠন করে ।

Related Posts

One thought on “নদীর পার্শ্বচিত্র (River Profie):

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *