গ্রাবরেখা (Moraine):

বুৎপত্তিগত অর্থঃ “Moraine” একটি ফরাসী শব্দ, যার অর্থ ‘মাটি ও প্রস্তর দ্বারা গঠিত তীর’ ।

সংজ্ঞাঃ পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় ক্ষয় পাওয়া শিলাখন্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহের সঙ্গে বয়ে চলে । এইসব বিচ্ছিন্ন ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখন্ড বা শিলাচূর্ণের কিছু অংশ হিমবাহের দুপাশে, সামনে তলদেহে স্তূপাকারে সঞ্চিত হয় । এই সব সঞ্চিত শিলাস্তূপকে গ্রাবরেখা (Moraine) বলে ।

উদাঃ তিস্তা নদীর উচ্চ অববাহিকায় লাচুং লাচেন অঞ্চলে নানা ধরনের গ্রাবরেখা দেখা যায় ।

বৈশিষ্ট্যঃ গ্রাবরেখা এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) এগুলি মূলত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায় ।
খ) ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির শিলাখন্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি দ্বারা গঠিত হয় ।

বিভিন্ন প্রকার গ্রাবরেখা (Moraine)

বিভিন্ন প্রকার গ্রাবরেখা (Moraine)

শ্রেণীবিভাগঃ গ্রাবরেখা বিভিন্ন ধরনের হয় । যেমন –
) পার্শ্ব গ্রাবরেখাঃ শিলাখন্ড বা শিলাচূর্ণ, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহের দু’পাশে স্তূপাকারে প্রাচীরের মতো সঞ্চিত হলে তাকে পার্শ্ব গ্রাবরেখা বলে ।
) প্রান্ত গ্রাবরেখাঃ শিলাখন্ড বা শিলাচূর্ণ, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহের সামনে স্তূপাকারে সঞ্চিত হলে তাকে প্রান্ত গ্রাবরেখা বলে ।
) মধ্য গ্রাবরেখাঃ দুটি হিমবাহ দুইদিক থেকে এসে একসঙ্গে মিলিত হয়ে উভয়ের পরস্পর সন্নিহিত পার্শ্বগ্রাবরেখা দুইটি মিশে গেলে তাকে মধ্য গ্রাবরেখা বলে ।
) তলদেশ গ্রাবরেখাঃ শিলাখন্ড বা শিলাচূর্ণ, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহের তলায় স্তূপাকারে সঞ্চিত হলে তাকে ভূমি গ্রাবরেখা বা তলদেশ গ্রাবরেখা বলে ।
৫) আবদ্ধ গ্রাবরেখাঃ শিলাখন্ড বা শিলাচূর্ণ, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহের মধ্যে আটকে পড়ে স্তূপাকারে সঞ্চিত হলে তাকে আবদ্ধ গ্রাবরেখা বলে ।
৬) অবিন্যস্ত গ্রাবরেখাঃ মাঝে মাঝে হিমবাহের সামনের দিকে গ্রাবরেখার স্তরগুলিকে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখা যায় । এধরনের গ্রাবরেখাকে অবিন্যস্ত গ্রাবরেখা বলে ।
৭) হিমতল গ্রাবরেখাঃ অনেক সময় শিলাখন্ড বা নুড়ি পর্বতের গা বেয়ে এবং হিমবাহের ফাঁটলের মধ্য দিয়ে হিমবাহের তলদেশে পৌছে সঞ্চিত হয় । একে হিমতল গ্রাবরেখা বলে ।
৮) বলয়ধর্মী গ্রাবরেখাঃ অনেক সময় প্রান্ত গ্রাবরেখাগুলিকে বলয়ের আকার ধারণ করতে দেখা যায় । একে বলয়ধর্মী গ্রাবরেখা বলে ।
৯) রোজেন গ্রাবরেখাঃ কোন কোন অঞ্চলে গ্রাবরেখাগুলি একে অপরের উপর জমতে থাকে । একে রোজেন গ্রাবরেখা বলে ।

6 thoughts on “গ্রাবরেখা (Moraine):

  1. Pingback: হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভুমিরূপসমূহ (Landforms made by depositional Work of Glacier): | bhoogolok.wordpress.com

    • দুঃখিত । কিন্তু আমি একটা জিনিসে বিশ্বাস করি যে, সহজ ভাষায় আত্তিকরণের থেকে উত্তম আর কিছু হতে পারে না । তাই সবার বোঝার সুবিধার্থে সহজ সরল ভাষায় লিখি । তবুও আপনার কথা মাথায় রেখে আগামী দিনে ভাষার আরও উন্নতি করার চেষ্টা করবো । ধন্যবাদ

  2. Pingback: নব (Knob) ও কেটল (Kettle): | bhoogolok.com

  3. Pingback: হিমবাহের সঞ্চয়কার্য ও সৃষ্ট ভূমিরূপসমূহ (Depositional Works of Glacier and Landforms): | bhoogolok.com

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.