হিমবাহের কার্য (Works of Glacier):

☻পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চলে ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অত্যধিক ঠান্ডা । এইসব অঞ্চলে তুষারক্ষেত্র ও হিমবাহ দেখা যায় । অত্যধিক শীতের জন্য পর্বতের উঁচু চুড়ায় ও মেরু অঞ্চলের বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প সারা বছর তুষারে জমে থাকে । পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের প্রধান কাজ ভূমি ক্ষয় করা অর্থাৎ,
১. হিমবাহের ক্ষয়কার্য (Erosional Works Of Glacier)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে]
এবং ক্ষয়ীভূত শিলাচূর্ণ বহন করা অর্থাৎ,
২. হিমবাহের বহনকার্য (Transportation of Glacier) ।
পার্বত্য অঞ্চল থেকে নামার পরে হিমবাহের প্রধান কাজ বাহিত শিলাচূর্ণ ও নুড়ি-পাথর জমা করা অর্থাৎ,
৩. হিমবাহের অবক্ষেপনকার্য বা হিমবাহের সঞ্চয়কার্য (Depositional Works of Glacier)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে] ।
বর্তমানে হিমবাহ কেবলমাত্র মেরুপ্রদেশে এবং হিমালয়, আল্পস প্রভৃতি সুউচ্চ পর্বতগাত্রে স্বল্প পরিসর স্থান জুড়ে অবস্থান করতে দেখা যায় । এই স্বল্প পরিসর স্থানে হিমবাহ অবস্থান করায় আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, ভূমিরূপ গঠনে হিমবাহের ভূমিকা হয়ত নগণ্য । কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ বছর আগে কোয়াটার্নারী যুগের প্লাইস্টোসিন উপযুগে পৃথিবীর জলবায়ু অতি শীতল ও আর্দ্র থাকায় হিমবাহ উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও আন্টার্কটিকা মহাদেশের এক বিশাল অংশ আবৃত করে থাকত । পরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এই সব হিমবাহ গলতে শুরু করে এবং ক্রমশ তা আকারে ক্ষুদ্র হয়ে পশ্চাদপসরণ করে বর্তমানে কেবল সুউচ্চ পর্বতগাত্রে ও উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থান করছে । উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও সাইবেরিয়ার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অতীতে সংঘটিত হিমবাহের বিভিন্ন কার্যকলাপের অজস্র নিদর্শন আজও লক্ষ্য করা যায় ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.