হিমবাহের কার্য কি?

বর্তমানে হিমবাহ কেবলমাত্র মেরুপ্রদেশে এবং হিমালয় , আল্পস্ প্রভৃতি সুউচ্চ পর্বতগাত্রে স্বল্প – পরিসর স্থান জুড়ে অবস্থান করতে দেখা যায় । এই স্বল্প – পরিসর স্থান জুড়ে হিমবাহ অবস্থান করায় মনে হতে পারে যে , ভূমিরূপ গঠনে হিমবাহের ভূমিকা বুঝি অতি নগণ্য । কিন্তু ৫০ লক্ষ বৎসর আগে কোয়াটারনারী যুগের প্লিসটোসেন ( Pleistocene ) উপযুগে পৃথিবীর জলবায়ু অতি শীতল ও আর্দ্র থাকায় , এই হিমবাহ উত্তর আমেরিকা , ইউরােপ , এশিয়া ও অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের এক বিশাল অংশ আবৃত করে থাকত । পরে উত্তাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সকল হিমবাহ গলে পশ্চাদপসরণ ( Retreat ) করে এবং আকারে ক্ষুদ্র হয়ে বর্তমানে সুউচ্চ পর্বতগাত্রে ও উচ্চ অক্ষাংশে ( High latitude ) অবস্থান করছে । উত্তর আমেরিকা , ইউরােপ ও সাইবেরিয়ার এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল অতীত হিমবাহের কার্যকলাপের স্বাক্ষর আজও বহন করছে ।
বর্তমান সময়ে পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চলে ও উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে অত্যধিক ঠান্ডা । এইসব অঞ্চলে তুষারক্ষেত্র ও হিমবাহ দেখা যায় । অত্যধিক শীতের জন্য পর্বতের উঁচু চুড়ায় ও মেরু অঞ্চলের বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প সারা বছর তুষারে জমে থাকে । ভূ-গঠনকারী শক্তি হিসাবে হিমবাহের কার্য মূলত তিনপ্রকার । যথা –
১. হিমবাহের ক্ষয়কার্য (Erosional Works Of Glacier)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে],
২. হিমবাহের বহনকার্য (Transportation of Glacier),

৩. হিমবাহের অবক্ষেপনকার্য বা হিমবাহের সঞ্চয়কার্য (Depositional Works of Glacier)………[বিস্তারিত পরবর্তী পোষ্টগুলিতে] ।