বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming)

  • গ্রীন হাউস প্রভাব, ওজোন স্তরের ক্ষয়, অরণ্যচ্ছেদন প্রভৃতি কারণে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে । বিগত ৮০০০ বছর ধরে এই তাপমাত্রা প্রায় স্থির ছিল । কিন্তু গত ১০০ বছরের হিসেবে প্রমাণিত যে এই তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে । গবেষণা করে দেখা গেছে, বিগত ১০০ বৎসরে পৃথিবীর তাপমাত্রা ০.৫° C  বৃদ্ধি পেয়েছে । বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১.৫°-২.০° C পর্যন্ত এবং ২১০০ সালের মধ্যে ১.৮°C  থেকে ৬.৩° C এর মতো বৃদ্ধি পেতে পারে । সারা পৃথিবী জুড়ে উষ্ণতার এই ক্রমবর্দ্ধমান বৃদ্ধিকেই বিজ্ঞানীরা বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) নামে অভিহিত করেছেন ।
  • বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কারনঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং – এর কারনগুলি হলো নিম্নরূপ –
    • ১) জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বৃদ্ধিঃ কলকারখানা, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সবকিছুতেই জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার দিন দিন বাড়ার ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমণের পরিমাণও দিন দিন লাফিয়ে বাড়ছে ।
    • ২) CFC-এর ব্যবহার হ্রাসঃ ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC11, CFC12) বা ফ্রেয়ন একটি বিশেষ যৌগ, যা ওজোন স্তর বিনাশনের জন্য বিশেষভাবে দায়ী । এই CFC প্রধানত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ফোম শিল্প, রং শিল্প, প্লাস্টিক শিল্প, সুগন্ধি শিল্প, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রের সার্কিট পরিষ্কার প্রভৃতি ক্ষেত্র থেকে নির্গত হয় ।
    • ৩) নাইট্রাস অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফারের কণা উৎপাদন বৃদ্ধিঃ কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, যানবাহন, নাইলন শিল্প প্রভৃতি কলকারখানা-যানবাহনের বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, ট্যানারি কারখানার বর্জ্য পদার্থ, জেট বিমান, রকেট উৎক্ষেপণ, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র প্রভৃতি থেকে নাইট্রাস অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফারের কণা নির্গত হয়; যেগুলি বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী এক একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ।
    • ৪) অরণ্যচ্ছেদনঃ গাছপালা উজাড় হওয়ার ফলে বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে ।
    • ৫) মিথেনের পরিমান বৃদ্ধিঃ গাছপালার পচন, কৃষিজ বর্জ্য এবং জীবজন্তুদের বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
  • বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলাফলঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং – এর ফলাফলগুলি হলো নিম্নরূপ –
    • ক) পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলে পৃথিবী গত ২০ লাখ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গরম হয়ে যাবে । ১৮৮০ সাল থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ০.৬° C বেড়েছে । ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর ঊষ্ণতা ২.৫° C এবং ২০৫০ সাল নাগাদ ৩.৮° C বেড়ে যেতে পারে । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গত ২০০০০ বছরের তুলনায় শেষ শতকে বিশ্বের উষ্ণতা বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে । বিংশ শতাব্দীর দুটি অধ্যায়ে (যথা – ১৯২০-১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ এবং ১৯৭৬-২০০০ খ্রিষ্টাব্দ) উষ্ণতা সবথেকে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে । ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে হিসাব করলে বিশ্বের উষ্ণতম দশক হচ্ছে ১৯৯০ এর দশক । নাসার গোদার্দ ইনস্টিটিউট ফর স্পেন স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম বছর । কিন্তু ওয়ার্ল্ড মিটিয়েরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট ও ক্লাইমেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, উষ্ণতম বছর হলো ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর হলো ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ ।
    • খ) মেরু অঞ্চলের বরফ গলনঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলে বিষুবীয় ও মেরু অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে । মনে করা হচ্ছে, আর ১০০ বছরের মধ্যে হিমশৈলসহ সুমেরু কুমেরুতে জমে থাকা সমস্ত বরফ জলে পরিনত হবে । শীতে অল্প বরফ থাকবে । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের পর উত্তর মহাসাগরের বরফের স্তর প্রায় ২৭% হ্রাস পেয়েছে ।
    • গ) সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধিঃ এই ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার ফলে বিষুবীয় ও মেরু অঞ্চলের জমে থাকা বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রের জলস্তর ৩০ – ৪০ সেন্টিমিটার বেড়ে যাবে । এর ফলে পৃথিবীর উপকূলবর্তী এলাকার (ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশসহ) একটি বিরাট অংশ সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে । উল্লেখ্য, পৃথিবীতে সঞ্চিত সমস্ত বরফ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলতলের উচ্চতা প্রায় ৫০ মিটার বেড়ে যাবে ।
    • ঘ) রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিঃ ম্যালেরিয়া, গোদ, কলেরা ডেঙ্গু প্রভৃতি রোগের প্রকোপ বাড়বে; তার কারণ জল বাড়লে মশা বাড়বে । আরো ভিন্ন রোগ ফিরে আসবে ,নতুন রোগ আসবে । কেনিয়ার উচ্চভূমিতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে অতীতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ প্রায় ছিল না বললেই চলে । ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৬৯০০ ফুট উচ্চতায় এইপ্রথম ম্যালেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে । কলম্বিয়ার আন্দিজ পর্বতমালায় ৭০০০ ফুট উচ্চতায় ডেঙ্গু ও পীতজ্বর সংক্রামক মশার সংখ্যা বাড়ছে ।
    • ঙ) বাস্তুতন্তের বিনাশঃ সমুদ্রে ক্ষারের পরিমাণ কমবে, ফলে ক্ষারে বেচে থাকা জীবের অস্তিত্ব লোপ পেয়ে বাস্তুতন্ত্রের বিনাশ ঘটবে । গত ৫০ বছরে মেরুপ্রদেশে পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে গেছে । এছাড়াও, গত ৫০ বছরে বিশ্বের ২৭% প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হয়ে গেছে । উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে স্কটল্যান্ডের জীববৈচিত্রের বিনাশ ঘটেছে । ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে হাজার হাজার পক্ষীকূলের বিনাশ ঘটছে । এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্রের প্রায় ৫০% ধ্বংস হয়ে যাবে ।
    • চ) আবহাওয়ার প্রকৃতি পরিবর্তনঃ উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবার ফলে অধঃক্ষেপণের পরিমাণ, ঝড়ঝঞ্জার প্রকোপ প্রভৃতি বৃদ্ধি পাবে । ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে । বৃষ্টিবহুল এলাকা নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে ক্রমশ বাড়তে থাকবে । ফলে আবহাওয়ার প্রকৃতিরও পরিবর্তন হবে । এথেন্স, শিকাগো, দিল্লী, প্যারিসসহ পৃথিবীর অন্যান্য শহরে গ্রীষ্মকাল স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ীও যেমন হচ্ছে, তেমনই গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরমও পড়ছে । তিব্বত, আফগানিস্তান, ভারত, নেপালসহ বহু দেশে শীতকাল স্বল্পস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি শীতের মাত্রাও কমে গেছে ।  ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্লাসগো ও মন্টানায় তাপমাত্রা সারাবছরে একবারও ০°C এর নীচে নামেনি, যা সেখানকার অদ্যাবধিকাল পর্যন্ত সর্বকালীন রেকর্ড । আবার, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ ছিল নিউইয়র্কের ইতিহাসে উষ্ণতম ও শুষ্কতম বছর ।
    • ছ) ফসলের ক্ষতিঃ আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে ফসলের সমূহ ক্ষতি হবে এবং উৎপাদন কমে যাবে ।
    • এছাড়াও,
      • জ) বনাঞ্চল ধ্বংস হবে (১৯৯৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় এক ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ২০ লক্ষ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে) ।
      • ঝ) পানীয় জলে সংক্রমণ দেখা দেবে ।
      • ঞ) বন্যজন্তুর সংখ্যা হ্রাস পাবে ।
      • ট) মানুষের আবাসস্থলের সংকট দেখা দেবে ।
      • ঠ) বিশ্বজুড়ে খাদ্যভাব প্রকট হবে । 
      • ড) স্থানবিশেষে কোথাও ক্ষরা, আবার কোথাও বন্যার প্রকোপ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে (১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে সারা পৃথিবীজুড়েই খরা ও বন্যার পরিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে) ।
      • ড) দুর্ভিক্ষ, মহামারী, খাদ্যদাঙ্গা শুরু হবে । সব মিলিয়ে পৃথিবীতে নতুন নতুন ভৌগোলিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হবে ।
  • বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ন্ত্রনের উপায়ঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলি হলো নিম্নরূপ –
    • ক) জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার হ্রাসঃ কলকারখানা, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সবকিছুতেই জীবাশ্ম জ্বালানী জ্বালানোর পরিমাণ ক্রমশ যতটা পারা যায় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের পরিমান যথাসম্ভব কমাতে সম্ভব হয় ।
    • খ) রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাসঃ কৃষিতে নাইট্রোজেন সার (যেমন ইউরিয়া) ব্যাবহারের ফলে বাড়ছে নাইট্রজেন অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ । অবিলম্বে কৃষিকাজে রাসায়নিক সারের ব্যবহার যথাসম্ভব কমাতে হবে ।
    • গ) মিথেন নির্গমনের পরিমাণ হ্রাসঃ গাছপালার পচন এবং জীব জন্তুদের বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে । মিথেনের এই সকল উৎসগুলিকে অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ।
    • ঘ) অচিরাচরিত শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিঃ অচিরাচরিত শক্তি বলতে সেইসব শক্তিকেই বোঝায় যাদের ব্যবহার এখনও পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবীতে সেই অর্থে প্রচলিত হয়নি । এইসকল শক্তির অধিকাংশেরই উৎস পুনর্নবীকরণ করা যাবে অর্থাৎ, ফুরিয়ে গেলে আবার তৈরি করে নেওয়া সম্ভব । জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহারে বায়ুমন্ডলে গ্রীণ হাউস গ্যাসের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে । ফলে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানীর পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানী ব্যবহার করলে বায়ুমন্ডলে গ্রীণ হাউস গ্যাস (যেমন – কার্বন-ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন, ওজোন) এর পরিমাণ কমে আসবে । ফলে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমে যাবে । সাম্প্রতিক কালে এই অচিরাচরিত শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে ব্যাপকভাবে আলাপ আলোচনা হচ্ছে । এই চিরাচরিত শক্তিগুলি হল – সৌর শক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, বায়োডিজেল, জোয়ার-ভাটা শক্তি, ভূ-তাপীয় শক্তি, আবর্জনা থেকে প্রাপ্ত শক্তি, নিউক্লিয়ার এনার্জি প্রভৃতি ।
    • ঙ) ই-ওয়েস্ট বা ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য আমদানী বন্ধঃ উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে নানা ধরণের ই-ওয়েস্ট বা ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য আমদানী হচ্ছে আমাদের দেশে । প্রতি বছর প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ব্যবহৃত (সেকেন্ড হ্যান্ড) কম্পিউটার তৃতীয় বিশ্বে পাঠানো হচ্ছে । এসব কম্পিউটারের অন্যতম ক্রেতা হলো চীন, ভারত ও বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলি; অর্থাৎ, তৃতীয় বিশ্বের এইসকল দেশগুলিকে ইলেক্ট্রনিক বর্জ্যের আস্তাকুড়ে পরিণত করা হচ্ছে । এইসব ই-বর্জ্যের মধ্যে হাজার হাজার টন সীসাসহ রয়েছে আরও বহু বিষাক্ত উপাদান, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসছে । এসব দূষিত বর্জ্য পদার্থ বিভিন্নভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সরাসরি কৃষি সম্পদ, মৎস্যসম্পদ, বনজ সম্পদ বিনষ্টেরও অন্যতম কারণ ।
    • চ) পরিকল্পিত বনায়নঃ বিশ্বজুড়ে যখন বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষেধক হলো অরণ্য । একদিকে অরণ্যচ্ছেদন রোধ ও অন্যদিকে পরিকল্পিতভাবে বনায়নের মধ্য দিয়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ।
    • ছ) শক্তিসাশ্রয়ী আবাসনঃ আমাদের জীবনযাপনের সবক্ষেত্রেই পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে । বড় বড় অট্টালিকা, বাড়িঘর বা বড় দালান নির্মাণে প্রয়োজনীয় খালি জায়গা রাখতে হবে । প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের প্রবেশ যেন সহজে হয় সে ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে যাতে কম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাতে হয় । লিফট, জেনারেটর, এয়ার কন্ডিশন এসবের ব্যবহার কমাতে গ্রীণ বিল্ডিং টেকনোলজির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে । শহরের পাশাপাশি গ্রামের বাড়িঘর নির্মাণেও বিদ্যুত সাশ্রয়ী সবুজায়ন প্রয়োজন ।
    • জ) পরিবেশ রক্ষাসংক্রান্ত চুক্তিগুলির দ্রুত বাস্তব রূপায়ণঃ বিশ্বে ক্রমবর্দ্ধমান বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে চুক্তিগুলির দ্রুত বাস্তব রূপায়ণ খুবই দরকার । কেবলমাত্র আলাপ-আলোচনা নয়, দরকার গৃহীত সিদ্ধার্ন্তগুলির দ্রুত ও বাস্তব রূপায়ণ ।
    • ঝ) বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব দ্রব্য ব্যবহারঃ গ্রীন হাউস প্রভাব সৃষ্টিকারী উপাদানগুলির বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব দ্রব্য ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে ।
    • ঞ) নতুন প্রযুক্তিঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধের চুড়ান্ত উত্তর হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি । তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত উপাদান পরিবর্তন, যানবাহনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড পৃথকীকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন প্রভৃতিসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও প্রয়োগ করতে হবে ।
    • ট) নাগরিক দায়িত্বঃ পরিবেশ রক্ষা নাগরিকদের মৌলিক দায়িত্ব । তাই বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং সৃষ্টিকারী উপাদানগুলি যাতে পরিবেশে কম পরিমানে উৎপাদিত হয়, সে বিষয়ে সকলকেই দায়িত্বশীল হতে হবে ।

21 comments

Leave a Reply