মেরুপ্রভা বা মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora):

বুৎপত্তিগত অর্থঃ মেরুপ্রভা বা ‘Aurora’ শব্দটি এসেছে রোমান পুরাণ থেকে, যার অর্থ ‘ঊষাদেবী’ ।

সংজ্ঞাঃ মেরু অঞ্চলে ৮০-৩০০ কিমি উচ্চতায় একপ্রকার মৃদু বর্ণিল আলোকচ্ছটা দেখা যায়, যাকে মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভা বা অরোরা (Aurora) বলে ।
উত্তর অক্ষাংশে একে সুমেরুজ্যোতি বা সুমেরুপ্রভা (Aurora Burealis/The Northern Light) নামে পরিচিত, এবং দক্ষিণ অক্ষাংশে একে বলা হয় কুমেরুজ্যোতি বা কুমেরুপ্রভা (Aurora Australis/The Southern Light) ।

সৃষ্টিঃ সূর্য থেকে বেরিয়ে আসা কিছু ইলেকট্রন, প্রোটন প্রভৃতি দিয়ে তৈরি হয় সৌরঝড় । এই সৌরঝড় যখন তীব্র শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আসতে চায় তখন বায়ুমণ্ডলের ম্যাগনেটোস্ফিয়ার একে বাধা দেয় । ফলে সেই সৌরঝড়ের সব শক্তি ফুরিয়ে আসে এবং আয়নোইজেশন ঘটে, যা রাতের বেলায় দেখা দেয় বর্ণিল আলোকচ্ছটা অর্থাৎ মেরুজ্যোতিরূপে ।

বৈশিষ্ট্যঃ মেরুজ্যোতি – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক)
মেরুজ্যোতি আসলে এক ধরনের আলোকচ্ছটা ।
খ)
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে দুই মেরুর কাছে এটি বেশি দেখা যায় । মহাকাশের বিস্ময় মেরুজ্যোতি হিসেবে এটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ।
গ)
এটি প্রায়ই রাতের আকাশে উজ্জ্বল রঙিন আলোর দীপ্তি হয়ে দৃশ্যমান হয় । এ সময় লাল, সবুজ, নীল এবং হলুদ রঙে চারপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে ।
ঘ)
মেরুজ্যোতি কখনও বৃত্তাকার পর্দার মতো, কখনও ছড়িয়ে পড়া আলোর মতো, আবার কখনও পাখার আকৃতির আলোক বিচ্ছুরণের মতো দেখায় ।

উদাঃ মেরুজ্যোতি দেখার জন্য আদর্শ স্থান হলো কানাডার হাডসন উপসাগরের আশপাশ, উত্তর স্কটল্যান্ড, দক্ষিণ নরওয়ে এবং সুইডেনের আকাশ ।

2 thoughts on “মেরুপ্রভা বা মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora):

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: