আয়নোস্ফিয়ার (Ionsphere):

সংজ্ঞাঃ মেসোপজের পর থেকে প্রায় ৫০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অবস্থিত হালকা বায়ুস্তরকে থার্মোস্ফিয়ার বলা হয় । এই স্তরের নিম্নভাগে তড়িৎযুক্ত কণা বা আয়নের উপস্থিতি দেখা যায় । তাই থার্মোস্ফিয়ারের নিম্নভাগকে আয়নোস্ফিয়ার (Ionsphere) বলা হয় ।

আবিস্কারকঃ বিজ্ঞানীদ্বয় কেনেলি ও হেভিসাইড সর্বপ্রথম আয়নোস্ফিয়ারের উপস্থিতি প্রমাণ করেন ।

বিস্তারঃ থার্মোস্ফিয়ারের নিম্নভাগে (৮০-১২০ কিমি) অবস্থিত ।

শ্রেণীবিভাগঃ এটি আবার দুটি উপস্তরে বিভক্ত ।
যথা- ক) D-স্তর (বিস্তার ৮০-৯০ কিমি) ও
খ) E-স্তর বা কেনেলি-হেভিসাইড স্তর
(বিস্তার ৯০-১২০ কিমি) ।

বৈশিষ্ট্যঃ আয়নোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ-
ক) আয়ন মন্ডল সৃষ্টি-এই স্তরের বায়ু আয়নিত অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ এই বিরাট অঞ্চলটি বিদ্যুতযুক্ত অসংখ‍্য আয়ন ও ইলেকট্রনে পূর্ণ হয়ে আছে । এখানে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, ওজোন প্রভৃতি গ্যাস আয়নিত অবস্থায় থাকে ।
খ) মেরুজ্যোতি সৃষ্টি-তড়িতাহত অণুর চৌম্বক বিক্ষেপের ফলে এখানে সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে এক রকম উজ্জ্বল আলোক বিচ্ছুরণ দেখা যায়,একে মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভা বলে ।
গ) বেতার সংযোগ-ভূপৃষ্ঠের বেতার তরঙ্গগুলি আয়নোস্ফিয়ার ভেদ করে আরও ওপরে যেতে পারে না বলে এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে । তাই বিভিন্ন রেডিও স্টেশন থেকে প্রচারিত গান, বাজনা, নাটক, কবিতা, সংবাদ প্রভৃতি আমরা রেডিও মারফত বাড়ি বসে শুনতে পাই ।
ঘ) X-রশ্মির থেকে রক্ষা-বিপজ্জনক X-রশ্মির থেকে আয়নোস্ফিয়ার জীবজগতকে রক্ষা করে ।

2 thoughts on “আয়নোস্ফিয়ার (Ionsphere):

  1. Pingback: বজ্রঝড় (Thunderstorm): – bhoogolok.com

  2. Pingback: থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere): | bhoogolok.com

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.