থার্মোস্ফিয়ার কি?

সংজ্ঞাঃ মেসোপজের পর থেকে প্রায় ৫০০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অবস্থিত হালকা বায়ুস্তরকে থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere) বলা হয় । গ্রীক শব্দ “Thermos” এর অর্থ ‘উষ্ণতা’ ও “Sphere” এর অর্থ ‘মন্ডল’ ।

বিস্তারঃ থার্মোস্ফিয়ারের বিস্তার  প্রায় ৯০ কিমি – ৫৫০ কিমি ।

বৈশিষ্ট্যঃ থার্মোস্ফিয়ার – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
১. অসংখ্য ধনাত্মক ও ঋণাত্মক তড়িৎগ্রস্ত কণা বা আয়ন থাকায় থার্মোস্ফিয়ারের নীচের অংশকে আয়নােস্ফিয়ার বলে । আয়নােস্ফিয়ারের 90 থেকে ১৬০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটির নাম ‘ কেনেলি – হেভিসাইড স্তর । এই স্তর স্বল্প দৈর্ঘ্যের বেতারতরঙ্গগুলিকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে রেডিয়াে যােগাযােগ সম্ভব করেছে ।
২. উর্দ্ধ থার্মোস্ফিয়ারে চৌম্বকবিক্ষেপ জনিত কারণে সৃষ্ট অসংখ্য মুক্ত ইলেকট্রন কণা দ্বারা প্রতিফলিত তরঙ্গ সুমেরুতে সুমেরুপ্রভা ও কুমেরুতে কুমেরুপ্রভা নামের মেরুজ্যোতির সৃষ্টি করে ।
৩. এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উয়তা অতি দ্রুত হারে বাড়তে থাকে এবং উধ্বসীমায় তাপমাত্রা হয় । প্রায় ১৫০০ ° সে .।
৪. হালকা বায়ু দিয়ে গঠিত এই স্তরের ভর বায়ুমণ্ডলের মোট ভরের মাত্র ০.৫% ।
৫. এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে ।