ক্ষুব্ধমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার কি?

সংজ্ঞাঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিমি ও নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৮ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অবস্থিত বায়ুস্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere) বলে । বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে আমরা বাস করি । বায়ুমণ্ডলের এই স্তরের বায়ুতে প্রায় ৯০ শতাংশ ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প, কুয়াশা, মেঘ প্রভৃতি থাকায় এই স্তরে ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত প্রভৃতি ঘটনাগুলি ঘটতে দেখা যায়, এজন্য ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলীয় এই স্তরকে ক্ষুব্ধমন্ডল বলে । গ্রীক শব্দ “Tropos” এর অর্থ ‘পরিবর্তন’ ও “Sphere” এর অর্থ ‘মন্ডল’ ।

বিস্তারঃ ট্রপোস্ফিয়ারের বিস্তার মেরু অঞ্চলে (Poles) প্রায় ৯ কিমি পর্যন্ত এবং নিরক্ষীয় (Equator) অঞ্চলে প্রায় ১৮ কিমি পর্যন্ত ।

বৈশিষ্ট্যঃ ট্রপোস্ফিয়ারের – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
১. এই স্তরে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় বায়ুর উষ্ণতা ৬.৫ ° সেন্টিগ্রেড হারে কমতে থাকে । একে ’উষ্ণতা হ্রাসের গড়’ (Average Laps Rate of Temperature) বলে । এই কারণে ট্রপােস্ফিয়ারের উর্দ্ধ বা শেষ সীমায় বায়ুর উষ্ণতা কমে হয় প্রায় -৫৫ ° সেন্টিগ্রেড থেকে -৬৬ ° সেন্টিগ্রেড।
২. এটি বায়ুমণ্ডলের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্তর । এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের মােট ভরের তিন – চতুর্থাংশ পাওয়া যায় ।
৩. বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান , জলীয়বাষ্প , ধূলিকণা ও লবণের কণা যথেষ্ট পরিমাণে থাকে । মেঘের সৃষ্টি ও বায়ুপ্রবাহ প্রধানত এই স্তরেই দেখা যায় । ঘূর্ণবাত , টর্নেডাে , ঝড়বৃষ্টি , বিদ্যুৎবজ্রপাত , উয় ও শীতল বায়ুপ্রাচীর বা সীমান্তের উৎপত্তি নিম্নচাপ ও উচ্চচাপের সৃষ্টি প্রভৃতি ঘটনা ট্রপােস্ফিয়ারেই কেবল ঘটে ।
৪. ট্রপােস্ফিয়ারের উধ্বসীমাকে বলে ট্রপােপজ । এখানে উয়তা কমেও না, বাড়েও না অর্থাৎ, প্রায় ধ্রুবক থাকে ।
৫. বায়ুমণ্ডলস্থিত প্রায় ৭৫% গ্যাসীয় পদার্থ এই স্তরে থাকায় এখানে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি ।
৬. এই অংশে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর চাপ কমতে থাকে । এই স্তরে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ ।
৭. ট্রপোস্ফিয়ারের ওপরের স্তরে জলীয়বাষ্প বা মেঘ থাকে না বললেই চলে ।