বায়ুমণ্ডল কি?

সংজ্ঞাঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বে যে অদৃশ্য গ্যাসের আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) বলে । বায়ুমণ্ডল বলতে পৃথিবীকে চারপাশে ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাস মিশ্রিত স্তরকে বোঝায়, যা পৃথিবী তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা ধরে রাখে । একে আবহমণ্ডলও বলা হয় । বায়ুমণ্ডলকে চোখে দেখা যায় না, শুধু এর অস্তিত্ব আমরা অনুভব করতে পারি । এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আকর্ষণের বলে পৃথিবীর গায়ে লেগে থাকে এবং পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে আবর্তন করতে থাকে । বায়ুমণ্ডল কতকগুলি বিভিন্ন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উর্দ্ধে এটি ক্রমশঃ হালকা হয়ে গেছে । বায়ুমণ্ডলের শতকরা ৯৭ ভাগ পদার্থই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২৯ কিলােমিটারের ( ১৮ মাইল ) মধ্যে অবস্থান করলেও বায়ুমণ্ডলের উর্ধ্বসীমা আরও সুদূরপ্রসারিত । বৈজ্ঞানিকগণ বায়ুমণ্ডলের এই সীমানাকে ১০,০০০ কিলােমিটার বা ৬,০০০ মাইল পর্যন্ত ধরে থাকেন , যার আরও পরে আছে মহাশূন্য । আবহবিদ্যায় নীচের ১০০ কিঃ মিঃ বা ৬০ মাইল পর্যন্ত বায়ুস্তর সম্বন্ধে পর্যালােচনা করা হয় । বাকী উপরের অংশ এরোনমি ( Aeronomy ) বিদ্যার অন্তভুক্ত ।

বিস্তারঃ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মোটামুটিভাবে প্রায় ১০০০০ কিমি পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের অস্তিত্ব আছে বলে মনে করা হয় ।

বৈশিষ্ট্যঃ  বায়ুমন্ডল – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) বায়ুমন্ডল সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মিকে ওজন স্তর দ্বারা শোষণ করে পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করে ।
খ) বায়ুমন্ডল তাপ ধরে রাখার মাধ্যমে (গ্রীন হাউজ প্রক্রিয়া) ভূপৃষ্ঠকে উওপ্ত করে এবং দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা হ্রাস করে পৃথিবীর উষ্ণতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
গ) বাতাসের পরিমাণ ও বায়ুমন্ডলীয় চাপ বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন রকম হয় ।
ঘ) স্থলজ উদ্ভিদ ও স্থলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত বাতাস কেবল পৃথিবীর বায়ুমন্ডলেই পাওয়া যায় ।
ঙ) বায়ুমন্ডলের ভর প্রায় ৫×১০১৮ কেজি ।