বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহ – বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ (Blends of Different Gases),জলীয় বাষ্প ( Water Vapor) এবং জৈব ও অজৈব কণিকা বা অ্যারোসল (Aerosol):

☻ বায়ুমন্ডলের উপস্থিতি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০০০ কিমি পর্যন্ত ধরা হলেও বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলির শতকরা ৯৭ ভাগই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭-৩০ কিমির মধ্যে অবস্থান করে । বায়ুমন্ডল গঠনকারী এইসকল উপাদানগুলি মূলত তিনপ্রকার । যথা- ১. বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, ২. জলীয় বাষ্প এবং ৩. জৈব ও অজৈব কণিকা 

নীচে এগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো –

১. বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণঃ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে নাইট্রোজেনের (Nitrogen) পরিমাণ সব চেয়ে বেশী (৭৮%) এবং তার পরেই অক্সিজেনের (Oxygen) স্থান (২০.৯%) । এরা মিলিত ভাবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৯% ভাগ অধিকার করে আছে । এরা ছাড়া বায়ুমণ্ডলের বাকি ১.১ ভাগ অংশে কার্বন ডাই-অক্সাইড (Carbon dioxide), আর্গন (Argon), নিওন (Neon), হিলিয়াম (Helium), ক্রিপ্টন (Krypton), জেনন (Xenon), হাইড্রোজেন (Hydrogen), মিথেন (Methane), নাইট্রাস অক্সাইড (Nitrous oxide), ওজোন (Ozone) প্রভৃতি নানা গ্যাস রয়েছে ।

গুরুত্বঃ বায়ুমন্ডলের গ্যাসীয় উপাদানগুলির গুরুত্ব নিম্নরূপ –
ক) 
নাইট্রোজেন উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে খাদ্য সরবরাহ, রাসায়নিক সার উৎপাদন, মৃত্তিকার উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি প্রভৃতিতে সাহায্য করে ।
খ) 
অক্সিজেন জীবজগতের শ্বসনকার্য, লোহায় মরিচা সৃষ্টি, আগুন জ্বালানো, প্রাণীদেহে উত্তাপ ও শক্তির যোগান প্রভৃতিতে সাহায্য করে ।
গ) 
কার্বন-ডাই-অক্সাইড জীবজগতের খাদ্যের যোগান, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, কার্বনজাতীয় ও চুনজাতীয় খনিজ গঠন প্রভৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ।
ঘ) 
ওজোন গ্যাসসমৃদ্ধ ওজোন স্তর সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনী রশ্মি শোষন, নিম্ন বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতিতে ভূমিকা রাখে ।

২. জলীয় বাষ্পঃ জলীয় বাস্প হল জলের গ্যাসীয় অবস্থা । এটি বায়ুমন্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । জলীয় বাষ্প ভরের দিক থেকে বায়ুমন্ডলের প্রায় ০.২৫% । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ কিমি উচ্চতার মধ্যেই প্রায় ৯০% জলীয় বাস্প অবস্থান করে থাকে । অবস্থান ও সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুমন্ডলে এর গড় উপস্থিতির পরিমাণও পরিবর্তিত হয় ।

গুরুত্বঃ
বায়ুমন্ডলের জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব নিম্নরূপ –
ক) 
বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প সৌরতাপ শোষণ করে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণে বাধা দেয় ।
খ) 
জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির জন্যই পৃথিবীতে মেঘ, বৃষ্টি, তুষারপাত, কুয়াশা প্রভৃতির সৃষ্টি হয় ।
গ) জলচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
ঘ) 
বাস্পীভবনের হারকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
এবং

৩. জৈব ও অজৈব কণিকা বা অ্যারোসল (Aerosol):
বুৎপত্তিগত অর্থঃ ‘Aero’ শব্দের অর্থ ‘বায়ু’ ও ‘Sol’ শব্দের অর্থ ‘ধূলিকণা’।
সংজ্ঞা: বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের জৈব ও অজৈব কণিকাগুলিকে একত্রে অ্যারোসল বলে । এগুলির মধ্যে প্রধান হলো – (i) অতি ক্ষুদ্র খনিজ লবণ(ii) সমুদ্রতীরের ছোটো বালুকণা এবং (iii) কয়লা গুঁড়ো বা ধোঁয়া । এছাড়াও খনিজ কনা, জৈব উপাদান, পরাগ রেণু ও গুটিবীজ, সাগরের স্প্রে, আগ্নেয়গিরির ছাই, বিভিন্ন শিল্প দূষকসমূহ যেমন – ক্লোরিন কণা, ফ্লোরিন যৌগ এবং পারদ মৌল বাষ্প প্রভৃতিও অ্যারোসল রূপে বায়ুমন্ডলে উপস্থিত থাকে ।

গুরুত্বঃ
বায়ুমন্ডলের জৈব ও অজৈব কণিকার গুরুত্ব নিম্নরূপ –
ক)
এটি বায়ুমন্ডলে অধঃক্ষেপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে ।
খ)
এটি বর্ণচ্ছটা, নীল আকাশ প্রভৃতি সংঘটিত হওয়ার পিছনে ভূমিকা নেয় ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.