বায়ুমন্ডলের উপাদান কি ?

0
বায়ুমন্ডলের উপাদান কি কি ?

আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই, আজ আমার ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করবো যে প্রশ্নটি পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই প্রশ্নটি তারা অধ্যায়ন করলে পরীক্ষায় খুব সহজেই ভালো নম্বর অর্যন করতে পারবে। বায়ুমন্ডলের উপাদান কি কি এই প্রশ্নটি নিয়ে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

Advertisement

বায়ুমন্ডলের উপাদান কি কি ?

বায়ুমন্ডলের উপস্থিতি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০০০ কিমি পর্যন্ত ধরা হলেও বায়ুমন্ডল গঠনকারী উপাদানগুলির শতকরা ৯৭ ভাগই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৭-৩০ কিমির মধ্যে অবস্থান করে । বায়ুমন্ডলের উপাদান মূলত তিন প্রকার । যথা – বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, জলীয় বাষ্প এবং জৈব ও অজৈব কণিকা । নীচে এগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো

বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণঃ

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে নাইট্রোজেনের (Nitrogen) পরিমাণ সব চেয়ে বেশী (৭৮%) এবং তার পরেই অক্সিজেনের (Oxygen) স্থান (২০.৯%) । এরা মিলিত ভাবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৮.৯% ভাগ অধিকার করে আছে । এরা ছাড়া বায়ুমণ্ডলের বাকি ১.১ ভাগ অংশে কার্বন ডাই-অক্সাইড (Carbon dioxide), আর্গন (Argon), নিওন (Neon), হিলিয়াম (Helium), ক্রিপ্টন (Krypton), জেনন (Xenon), হাইড্রোজেন (Hydrogen), মিথেন (Methane), নাইট্রাস অক্সাইড (Nitrous oxide), ওজোন (Ozone) প্রভৃতি নানা গ্যাস রয়েছে ।

গুরুত্বঃ

বায়ুমন্ডলের গ্যাসীয় উপাদানগুলির গুরুত্ব নিম্নরূপ

  1. নাইট্রোজেন উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে খাদ্য সরবরাহ, রাসায়নিক সার উৎপাদন, মৃত্তিকার উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি প্রভৃতিতে সাহায্য করে ।
  2. অক্সিজেন জীবজগতের শ্বসনকার্য, লোহায় মরিচা সৃষ্টি, আগুন জ্বালানো, প্রাণীদেহে উত্তাপ ও শক্তির যোগান প্রভৃতিতে সাহায্য করে ।
  3. কার্বন-ডাই-অক্সাইড জীবজগতের খাদ্যের যোগান, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, কার্বনজাতীয় ও চুনজাতীয় খনিজ গঠন প্রভৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় ।
  4. ওজোন গ্যাসসমৃদ্ধ ওজোন স্তর সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনী রশ্মি শোষন, নিম্ন বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতিতে ভূমিকা রাখে ।

জলীয় বাষ্পঃ

জলীয় বাস্প হল জলের গ্যাসীয় অবস্থা । এটি বায়ুমন্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । জলীয় বাষ্প ভরের দিক থেকে বায়ুমন্ডলের প্রায় ০.২৫% । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ কিমি উচ্চতার মধ্যেই প্রায় ৯০% জলীয় বাস্প অবস্থান করে থাকে । অবস্থান ও সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুমন্ডলে এর গড় উপস্থিতির পরিমাণও পরিবর্তিত হয় ।

গুরুত্বঃ

বায়ুমন্ডলের জলীয় বাষ্পের গুরুত্ব নিম্নরূপ

  1. বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প সৌরতাপ শোষণ করে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণে বাধা দেয় ।
  2. জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির জন্যই পৃথিবীতে মেঘ, বৃষ্টি, তুষারপাত, কুয়াশা প্রভৃতির সৃষ্টি হয় ।
  3. জলচক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
  4. বাস্পীভবনের হারকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

জৈব ও অজৈব কণিকা বা অ্যারোসল (Aerosol):

বুৎপত্তিগত অর্থঃ

‘Aero’ শব্দের অর্থ ‘বায়ু’ ও ‘Sol’ শব্দের অর্থ ‘ধূলিকণা’।

সংজ্ঞাঃ

বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের জৈব ও অজৈব কণিকাগুলিকে একত্রে অ্যারোসল বলে । এগুলির মধ্যে প্রধান হলো – অতি ক্ষুদ্র খনিজ লবণ, সমুদ্রতীরের ছোটো বালুকণা এবং কয়লা গুঁড়ো বা ধোঁয়া । এছাড়াও খনিজ কনা, জৈব উপাদান, পরাগ রেণু ও গুটিবীজ, সাগরের স্প্রে, আগ্নেয়গিরির ছাই, বিভিন্ন শিল্প দূষকসমূহ যেমন – ক্লোরিন কণা, ফ্লোরিন যৌগ এবং পারদ মৌল বাষ্প প্রভৃতিও অ্যারোসল রূপে বায়ুমন্ডলে উপস্থিত থাকে ।

গুরুত্বঃ

বায়ুমন্ডলের জৈব ও অজৈব কণিকার গুরুত্ব নিম্নরূপ

  1. এটি বায়ুমন্ডলে অধঃক্ষেপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে ।
  2. এটি বর্ণচ্ছটা, নীল আকাশ প্রভৃতি সংঘটিত হওয়ার পিছনে ভূমিকা নেয় ।

উপরোক্ত অংশ থেকে কোনো বিস্ময় থাকলে অবশ্যই নিচে মন্তব্য করুন এবং প্রশ্নের বিষয়টি আপনার ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের কাছেও শেয়ার করতে ভুলবেন না। প্রশ্নটি পরে অধ্যায়ন করার জন্য বা নিজের কাছে সংরক্ষিত করার জন্য সরাসরি পিডিএফ (PDF) ফাইল ডাউনলোড করুন ধন্যবাদ।