বালি তরঙ্গ,বালি শিরা ও বালি পাত কি?

বালিয়াড়ি ব্যতীত মরু অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ভূমিরূপের মধ্যে অন্যতম হল বালি তরঙ্গ,বালি শিরা ও বালি পাত । নিচে এদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –
বালি তরঙ্গঃ সংজ্ঞাঃ মরু অঞ্চলে ঈষৎ অসমতল অংশে মৃদু বায়ুপ্রবাহ দ্বারা বালি সঞ্চিত হয়ে পরপর ঢেউ – এর ন্যায় আকৃতিতে যে তরঙ্গায়িত ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে বালি তরঙ্গ (Sand Ripple) বলে
উদাঃ সাহারা মরুভূমিতে বালি তরঙ্গ দেখা যায় ।
বৈশিষ্ট্যঃ বালি তরঙ্গ – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) বালিরাশির লম্ফদান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বালি তরঙ্গ সৃষ্টি হয় ।
খ) এর অনুবাত ঢালের তুলনায় প্রতিবাত ঢাল বেশি উঁচু হয় ।

বালি শিরাঃ সংজ্ঞাঃ মরু অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহজনিত সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট বাঁধের ন্যায় বালিগঠিত ভূমিরূপকে বালি শিরা (Sand Ridge) বলে ।
উদাঃ থর মরুভূমিতে বালি শিরা দেখা যায় ।
বৈশিষ্ট্যঃ বালি শিরা – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) এরা দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৫০ কিমি, প্রস্থে ১-৩ কিমি ও উচ্চতায় ৫০ মিটারের আশেপাশে হয় ।
খ) এরা বায়ুপ্রবাহের গতিপথে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে ।

বালি পাতঃ সংজ্ঞাঃ মরু অঞ্চলে অত্যন্ত সমতল অংশে বায়ুপ্রবাহবাহিত বালি জমতে থাকলে একটি পাতলা বালির স্তর তৈরী হয় । একে বালি পাত (Sand Sheet) বলে ।
উদাঃ লিবিয়ার ‘সেলিমা’ নামক বালি পাত ।
বৈশিষ্ট্যঃ বালি পাত – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) এগুলি মরু অঞ্চলের প্রসারণে সাহায্য করে ।
খ) এরা খুব পাতলা প্রকৃতির হয় ।