সিফ বালিয়াড়ি কি?

সংজ্ঞাঃ তীব্র ঘূর্ণিবায়ুর আঘাতে পরপর অনেকগুলি বালিয়াড়ি ভেঙ্গে গেলে বায়ুপ্রবাহের পথে বেশ সংকীর্ণ কিন্তু খুব লম্বা বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয় । এইপ্রকার দীর্ঘ অথচ সংকীর্ণ বালিয়াড়িকে সিফ বালিয়াড়ি (Seif Dunes) বলে । ‘সিফ’ একটি আরবী শব্দযার অর্থ “সোজা তরবারি” ভূমিরূপ বিজ্ঞানী বার্গনল্ড এর নামকরণ করেন । তাঁর মতে, সিফ বালিয়াড়ি গঠিত হয় তখনই যখন বার্খান গঠনের মত একদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত না হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে । সিফ বালিয়াড়ি তখনই দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায় যখন বায়ু বালিয়াড়ির সমান্তরালে প্রবাহিত হয় । তাঁর মতে বার্খান বা তীর্যক বালিয়াড়ির রূপান্তরেই সিফ বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয় ।

উদাঃ অস্ট্রেলিয়ার সিম্পসন মরুভূমিতে সিফ বালিয়াড়ি দেখা যায় ।

বৈশিষ্ট্যঃ সিফ বালিয়াড়ি – র বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) স্থায়ী বালিয়াড়ির মধ্যভাগ বায়ুপ্রবাহ কর্তৃক ভেঙ্গে সিফ বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয় ।
খ) এরকম বালিয়াড়ির উচ্চতা সাধারণত ১০০-২০০ মিটারদৈর্ঘ্য ১০০-১৫০ কিমি এবং প্রস্থ এক কিমির মত হয়ে থাকে । 
গ) পরস্পর সমান্তরালভাবে একাধিক সিফ বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে ।
ঘ) এগুলি দেখতে শৈলশিরার মত হয় ।
ঙ) এদের শীর্ষভাগ ধাঁরালো করাতের মত ও অগ্রভাগ সূচালো হয় ।
চ) দুটি সিফ বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী ফাঁককে করিডোর বলে ।

সিফ বালিয়াড়ি (Seif Dune)
সিফ বালিয়াড়ি (Seif Dune)

“সিফ বালিয়াড়ি কি?”-এ 6-টি মন্তব্য

মন্তব্য করা বন্ধ রয়েছে।