বার্খান কি?

সংজ্ঞাঃ উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের গতিপথে কিছু বালিয়াড়ি আড়াআড়িভাবে অর্ধচন্দ্রাকারে অবস্থান করে । এইপ্রকার বালিয়াড়িকে বার্খান (Barkhan) বলা হয় । মরু পর্যটক হেডিন সর্বপ্রথম এর নামকরণ করেন । বার্খান একটি তুর্কি শব্দএর অর্থ হল “কিরঘিজ স্টেপস অঞ্চলের বালিয়াড়ি” । বার্খান বা তির্যক বালিয়াড়ির গঠনের সূত্রপাত কিভাবে হয় তা নিয়ে কিছু মতভেদ আছে । তবে এটি গঠনের জন্য বাতাসের খুব বৃহদাকার কোন বাধার প্রয়ােজন হয় না । এমনকি প্রায় সমতল ভূমিভাগেও এটি গঠিত হতে দেখা যায় । সম্ভবতঃ কিছু নুড়ি একত্রে থাকলে , অথবা বায়ুর গতির তারতম্যে কিছু বালি সঞ্চিত হলে তাকে কেন্দ্র করেও এই বাখান গঠিত হতে পারে । বায়ু দ্বারা বাহিত বালির যােগান যদি বজায় থাকে তা হলে বালিয়াড়ি সম্মুখে এগিয়ে যায় । বার্খান বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান না করে সাধারণতঃ অনেকগুলি একত্রে অবস্থান করে । এইভাবে একত্রে অনেকগুলি বার্খানের অবস্থানকে বালিয়াড়ির শৃঙ্খল বা কলােনী ( Dune chains বা Dune colonies বা Dune complex ) বলা হয় ।

উদাঃ সাহারা মরুভূমিতে অনেক বার্খান দেখা যায় ।

বৈশিষ্ট্যঃ বার্খান – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
ক) বার্খানের সামনের দিকের ঢাল উত্তল (১০°-১৫°) এবং পিছনের দিক অবতল (৩০°) প্রকৃতির হয়ে থাকে ।
খ) বার্খানের দুই প্রান্তে অর্ধচন্দ্রকারে দুটি শিং – এর মত শিরা অবস্থান করে ।
গ) বার্খান বায়ুপ্রবাহের গতির দিকে ক্রমশ ঢালু ও বিপরীত দিকে ক্রমশ খাঁড়াই হয় ।
ঘ) যে সব মরু অঞ্চলে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়, সেখানে বার্খানের সৃষ্টি হয়ে থাকে ।
ঙ) বার্খানগুলির উচ্চতা সাধারণত ১০ – ৩০ মিটারদৈর্ঘ্য ৫০ – ২০০ মিটার এবং প্রস্থ ৪০ – ৭০ মিটার হয়ে থাকে । তবে অনেকক্ষেত্রে এরা ২০ – ৩০ মিটার উঁচু এবং ১৪০ মিটার বা তারও বেশি চওড়া হয় ।
চ) বার্খান মরু অঞ্চলে ল্যান্ডমার্ক হিসাবে কাজ করে ।
ছ) এগুলি বায়ুর প্রবাহপথে আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে ।
জ) বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেক সময় বার্খান থেকেও সিফ বালিয়াড়ি সৃষ্টি হতে পারে ।

বার্খান (Barkhan)
বার্খান (Barkhan)

“বার্খান কি?”-এ 7-টি মন্তব্য

মন্তব্য করা বন্ধ রয়েছে।